ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে

পাতলা পায়খানাকে অনেকেই সামান্য সমস্যা ভেবে দুই-তিন দিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু সব ডায়রিয়া এক রকম নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে কিছু পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। মূল ঝুঁকি একটাই - পানিশূন্যতা। আর সেটিই জীবনহানির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সঠিক চিকিৎসা ও তরল সরবরাহ না পেলে ডায়রিয়া এখনও বিশ্বজুড়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। কখন বুঝবেন বিষয়টি গুরুতর? প্রথম সতর্ক সংকেত হলো পানিশূন্যতা। বারবার পাতলা পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। তখন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা, চোখ ভেতরে ঢুকে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কান্নার সময় চোখে পানি না আসা বা অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়া বিপজ্জনক ইঙ্গিত। আরও কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত – >> উচ্চ জ্বর, যা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি>> রক্তমিশ্রিত পায়খানা>> ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী তীব্র বমি>> তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া

ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে

পাতলা পায়খানাকে অনেকেই সামান্য সমস্যা ভেবে দুই-তিন দিন অপেক্ষা করেন। কিন্তু সব ডায়রিয়া এক রকম নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে কিছু পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

মূল ঝুঁকি একটাই - পানিশূন্যতা। আর সেটিই জীবনহানির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সঠিক চিকিৎসা ও তরল সরবরাহ না পেলে ডায়রিয়া এখনও বিশ্বজুড়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

কখন বুঝবেন বিষয়টি গুরুতর?

প্রথম সতর্ক সংকেত হলো পানিশূন্যতা। বারবার পাতলা পায়খানার সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। তখন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা, চোখ ভেতরে ঢুকে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে কান্নার সময় চোখে পানি না আসা বা অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়া বিপজ্জনক ইঙ্গিত।

আরও কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত –

>> উচ্চ জ্বর, যা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি
>> রক্তমিশ্রিত পায়খানা
>> ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী তীব্র বমি
>> তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া চলা
>> তীব্র পেট ব্যথা বা খিঁচুনি

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা গুরুতর ভাইরাল ইনফেকশনের ক্ষেত্রে জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম - তাদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া দ্রুত মারাত্মক হতে পারে।

ডায়রিয়া কখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠে

বাংলাদেশে আইইডিসিআর-এর পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য পানিশূন্যতাও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে, তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

কী করবেন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত তরল সরবরাহ। ওরস্যালাইন ডায়রিয়ায় সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ বন্ধ করা যাবে না।

খাবারের মধ্যে সেদ্ধ ভাত, খিচুড়ি, কলা, স্যুপের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া যায়।

নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়। কারণ সব ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, বরং অযথা ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

নিরাপদ পানি পান করুন। হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন - বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাবার ধরার আগে। খাবার ভালোভাবে রান্না করুন এবং খোলা জায়গায় দীর্ঘ সময় ফেলে রাখবেন না।

ডায়রিয়া সাধারণ হলেও অবহেলা করার মতো নয়। শরীরের সিগন্যাল বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ জটিলতা এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, আইইডিসিআর বাংলাদেশ

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow