দেশের আরও বেশি ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতায় আনতে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়া চালু ও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এসএমই ফাউন্ডেশন ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের বক্তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশন ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এসএমই ঋণ সহজীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য খালিদ মাহমুদ খান এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের বিএসইএ প্রোগ্রামের টিম লিডার সারা এল. টেইলর। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান।
সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, ডিজিটাল ব্যবসা পরিচালনা, উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সেমিনারে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান আরও প্রায় ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা। ফলে প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বাইরে রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জামানতের অভাব, পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা, প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা এবং জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়া, ফিনটেকভিত্তিক সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির ব্যবহার সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসএমই ফাউন্ডেশন ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য অর্থায়ন পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই সেমিনারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের ব্যবধান কমানো, অর্থায়ন-প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ৩ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতে সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যার ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।