ডিজিটাল যুগে দিন দিন আমাদের সহনশীলতা কমছে কেন

মোবাইল ফেনটা হাতে থাকলেই এখন আমরা ভাবি যে, সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। তারপরও সম্পর্কগুলোতে গভীরতা কমে যাচ্ছে, অভিমান বাড়ছে, আবার ভিন্নমতরে বিষয়ে আমরা আগের তুলনায় কম সহনশীল হয়ে যাচ্ছি! বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলে কি চিন্তায় বৈচিত্র আসার কথা না? তাহলে উল্টোটা ঘটছে কেন? ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কি তবে আমাদের আচরণকে রূপান্তর করে দিচ্ছে? আজ (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে চলুন দেখি মনোবিজ্ঞানেএ বিষয়ে কী বলছে - ১. ফিল্টার বাবলপ্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়া এক ধরনের একো-চেম্বার, অর্থাৎ ফিল্টার বাবল তৈরিতে সাহায্য করছে। এর অর্থ হলো - সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা বেশি একই ধরনেরর মতবাদের বন্ধুর সঙ্গে যুক্ত হই, আর ভিন্নমতের মানুষদের সঙ্গে কম কথাবার্তা বলি। এর ফলে মতের পার্থক্যগুলোতে বিরোধ তৈরি হয়, কারণ আমরা ভিন্নমত শোনার অভ্যাস হারিয়ে ফেলি। ফলে সহনশীলতা কমে যায়। এর ওপর আলোচনা করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা, যেখানে দেখা গেছে অনলাইন ডিসকোর্স কঠোরভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং সহমর্মিতার জায়গা ছোট হয়ে যাচ্ছে। ২. এটেনশন-সাপোর্টেড কনটেন্টদ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া অসংখ্য সময় আমরা এটেনশন-সাপোর্টেড কনটেন্ট দেখে থাকি

ডিজিটাল যুগে দিন দিন আমাদের সহনশীলতা কমছে কেন

মোবাইল ফেনটা হাতে থাকলেই এখন আমরা ভাবি যে, সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। তারপরও সম্পর্কগুলোতে গভীরতা কমে যাচ্ছে, অভিমান বাড়ছে, আবার ভিন্নমতরে বিষয়ে আমরা আগের তুলনায় কম সহনশীল হয়ে যাচ্ছি!

বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলে কি চিন্তায় বৈচিত্র আসার কথা না? তাহলে উল্টোটা ঘটছে কেন? ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কি তবে আমাদের আচরণকে রূপান্তর করে দিচ্ছে? আজ (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে চলুন দেখি মনোবিজ্ঞানেএ বিষয়ে কী বলছে -

১. ফিল্টার বাবল
প্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়া এক ধরনের একো-চেম্বার, অর্থাৎ ফিল্টার বাবল তৈরিতে সাহায্য করছে। এর অর্থ হলো - সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা বেশি একই ধরনেরর মতবাদের বন্ধুর সঙ্গে যুক্ত হই, আর ভিন্নমতের মানুষদের সঙ্গে কম কথাবার্তা বলি। এর ফলে মতের পার্থক্যগুলোতে বিরোধ তৈরি হয়, কারণ আমরা ভিন্নমত শোনার অভ্যাস হারিয়ে ফেলি। ফলে সহনশীলতা কমে যায়।

এর ওপর আলোচনা করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা, যেখানে দেখা গেছে অনলাইন ডিসকোর্স কঠোরভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং সহমর্মিতার জায়গা ছোট হয়ে যাচ্ছে।

২. এটেনশন-সাপোর্টেড কনটেন্ট
দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া অসংখ্য সময় আমরা এটেনশন-সাপোর্টেড কনটেন্ট দেখে থাকি। এর ফলে কনটেন্ট যদি বিরোধ বা আবেগ-ভিত্তিক হয়ে যায়, তা দ্রুত ভাইরাল হয়। আর সহনশীল আলোচনার চাইতে রেজ বা আক্রোশ-ভিত্তিক মন্তব্য বেশি মনোযোগ পায়। এছাড়া দীর্ঘ স্ক্রলিং ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের অভাবে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে চাই, ভিন্নমতকে আমলে নেই না। এটি মানসিক আচরণে পরিবর্তন তৈরি করে, যাকে বলা হচ্ছে - ইমোশনাল হোস্টিলিটি বা অনুভূতিগত শত্রুতা।

৩. অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানো
তৃতীয়ত, গবেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানো আমাদের সহমর্মিতা ও বাস্তব-মানবিক যোগাযোগে প্রভাব ফেলছে। কারণ ভার্চুয়াল ইন্টার‌্যাকশন বাস্তবে সামনাসামনি বসে কথোপকথনের জায়গা নিতে পারে।

৪. লুকিয়ে থাকা
চতুর্থ কারণ, ডিজিটাল যোগাযোগে পরিচয় অনেক সময় লুকিয়ে রাখা যায়। তাই যে কথা মুখের সামনে বলতে সংকোচ হতো, এমন নেতিবাচক কথাও মানুষ অনলাইনে সহজেই লিখে দিচ্ছে। এভাবেই সহমর্মিতা হীন আচরণ আরো বেশি দৃশ্যমান হয়।

তবে সবকিছু নেতিবাচক নয়। গবেষণা দেখিয়েছে, সচেতন যোগাযোগ ও নৈতিক অনলাইন ব্যবহার সহনশীলতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এটা ভিন্নমতকে সম্মান করতেও শেখাতে পারে।

ডিজিটাল যুগে সহনশীলতা কমে যাওয়া কেবল প্রযুক্তির কারণে হচ্ছে না; এটি আমাদের আচরণ, প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন ও কমিউনিকেশন প্যাটার্নের একটি মিলিত ফল। সচেতন ব্যবহার, ভিন্নমত শোনা ও ভারসাম্যযুক্ত ডিজিটাল-অফলাইন অভ্যাস রাখলে আমরা আবারও সহমর্মিতা এবং শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করতে পারি।

সূত্র: পাবমেড, ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি, আরএক্সাইভ, জার্নাল অব সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ

এএমপি/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow