ঢাকামুখী শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাসরুম: ফরিদপুরের নগরকান্দা কলেজের অচলাবস্থা

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজে প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও শিক্ষার মানে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে উপস্থিতি কম থাকায় ক্লাসই নেওয়া হয় না, এতে শিক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধের ঘাটতি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক কর্মস্থলে নিয়মিত অবস্থান করেন না। কেউ কেউ ঢাকায় বসবাস করেন, আবার কেউ ফরিদপুর শহরে থাকেন এবং পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঝে মাঝে কলেজে উপস্থিত হন। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকলেও এখানে নেই এমন কোনো সিস্টেম। এমনকি নিয়মিত হাজিরা খাতার ব্যবস্থাও অকার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে কে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন আর কে নিচ্ছেন না, তার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কলেজ প্রশাসনের কাছে নেই।অভিযোগ রয়

ঢাকামুখী শিক্ষক, ফাঁকা ক্লাসরুম: ফরিদপুরের নগরকান্দা কলেজের অচলাবস্থা

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজে প্রশাসনিক দুর্বলতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও শিক্ষার মানে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে উপস্থিতি কম থাকায় ক্লাসই নেওয়া হয় না, এতে শিক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধের ঘাটতি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক কর্মস্থলে নিয়মিত অবস্থান করেন না। কেউ কেউ ঢাকায় বসবাস করেন, আবার কেউ ফরিদপুর শহরে থাকেন এবং পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঝে মাঝে কলেজে উপস্থিত হন। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকলেও এখানে নেই এমন কোনো সিস্টেম। এমনকি নিয়মিত হাজিরা খাতার ব্যবস্থাও অকার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে কে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন আর কে নিচ্ছেন না, তার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কলেজ প্রশাসনের কাছে নেই।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার পারভিনসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক ঢাকায় অবস্থান করেন এবং নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক শাহানা শামীম। তিনি বলেন, “আমি ঢাকায় থাকি—এটি সত্য, তবে আমি নিয়মিতই নগরকান্দা কলেজে এসে দায়িত্ব পালন করি।” সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা আক্তার পারভিনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলেমেয়েরা ঢাকায় থাকেন। আমি সব সময় ঢাকায় থাকি না। আমার ফরিদপুরে বাসা আছে, ফরিদপুর থেকে নিয়মিত নগরকান্দায় গিয়ে অফিস করি।” তবে সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, নগরকান্দার একমাত্র সরকারি কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি নগরকান্দা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “কলেজে শিক্ষক সংকট নেই; তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকায় সব বিষয়ের নিয়মিত ক্লাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু বিষয়ে একাধিক শিক্ষক থাকায় দূরে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে, তারা মাঝেমধ্যে এসে ক্লাস নেন।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিগগিরই লিখিত নোটিশ জারি করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলোকে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে তাদের অনুরোধ করা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, দ্রুত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা এবং পাঠদান কার্যক্রমে গতি ফেরানো না গেলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান আরও অবনতি হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow