ঢাকার জাদুঘরগুলো যেমন আছে, চলছে যেভাবে

পৃথিবীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যত ইতিহাস লেখা হয়েছে, তারই প্রতিচ্ছবি হলো জাদুঘর। জাদুঘর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে। এ দিবসটি কেন্দ্র করে ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়াম’ প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বিভক্ত বিশ্বকে একত্র করছে জাদুঘর’। সারাবিশ্ব যে সামাজিক, পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে কীভাবে জাদুঘরগুলো পরস্পর সেতুবন্ধনে ভূমিকা রাখতে পারে- এ প্রতিপাদ্যে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বাংলা তথা উপমহাদেশে জাদুঘরের ধারণাটি এসেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে, ১৭৯৬ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশে শতাধিক জাদুঘর আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরই দেশের প্রধান জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত। এদিকে, আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (১৮ মে) দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। দিবসটি ঘিরে শোভাযাত্রা, বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক

ঢাকার জাদুঘরগুলো যেমন আছে, চলছে যেভাবে

পৃথিবীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যত ইতিহাস লেখা হয়েছে, তারই প্রতিচ্ছবি হলো জাদুঘর। জাদুঘর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে।

এ দিবসটি কেন্দ্র করে ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়াম’ প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বিভক্ত বিশ্বকে একত্র করছে জাদুঘর’। সারাবিশ্ব যে সামাজিক, পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে কীভাবে জাদুঘরগুলো পরস্পর সেতুবন্ধনে ভূমিকা রাখতে পারে- এ প্রতিপাদ্যে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বাংলা তথা উপমহাদেশে জাদুঘরের ধারণাটি এসেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে, ১৭৯৬ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশে শতাধিক জাদুঘর আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরই দেশের প্রধান জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে, আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (১৮ মে) দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। দিবসটি ঘিরে শোভাযাত্রা, বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যদিও ঢাকার অনেক জাদুঘরের কার্যক্রমই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি বড় জাদুঘরই রাজধানী ঢাকায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এসব জাদুঘরেই ভিড় করেন ইতিহাসপ্রেমী বিভিন্ন বয়সের মানুষ। 

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

দেশের সবচেয়ে বড় জাদুঘর ও সংগ্রহশালা হলো বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, শিল্পকলা ও প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত নিদর্শনাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৩ সালে ঢাকা জাদুঘর নামে এর যাত্রা শুরু। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে ৮ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর একটি চারতলা ভবনে জাদুঘরটি অবস্থিত।

jagonews24.com

এ জাদুঘরে ৪৪টি প্রদর্শনী কক্ষ, তিনটি অডিটোরিয়াম, একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও দুটি অস্থায়ী প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চারটি শাখা জাদুঘর। এগুলো হলো- সিলেটের ওসমানী জাদুঘর, ঢাকার আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর এবং ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা।

আরও পড়ুন
চার দশকেও অন্তরালে ওসমানী জাদুঘর
ঢাকার নগর জাদুঘর দেখতে যায় না ‘কেউ’

এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ দর্শনার্থী পরিদর্শন করেন। দিনে গড়ে প্রায় ৫০০ থেকে দুই হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন। ছুটির দিন বা বিশেষ জাতীয় দিবসগুলোতে বাড়ে আগত দর্শনার্থীর সংখ্যা। প্রতি বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে, মিরপুর সেনানিবাসে। তখন এর নাম ছিল ‘আর্মি মিউজিয়াম’। এরপর ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের মার্চের মধ্যে এটি স্থানান্তরিত হয় বিজয় সরণিতে। তখন জাদুঘরটির নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর’।

২০১০ সালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জাদুঘরটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়। বর্তমান ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি এই জাদুঘরের বর্তমান সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হয়।

jagonews24.com

১১ হাজার ৫০ বর্গফুটের এই জাদুঘর ছয় ভাগে বিভক্ত- ‘বিজয়াঙ্গন’, ‘সেনা’, ‘বিমান’, ‘নৌ গ্যালারি’, ‘তোশাখানা জাদুঘর’ এবং ‘জাতিসংঘ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা কর্নার’। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এই জাদুঘরটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক, নান্দনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যবহুল জাদুঘরগুলোর একটি। এখানে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাফল্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় নিদর্শনগুলো অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সাপ্তাহিক বন্ধ প্রতি বুধবার এবং সরকারি ছুটির দিন জাদুঘরটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। ১৯৮৭ সালে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরের গোড়াপত্তন হয়। ২০১৪ সালে বেগম রোকেয়া সরণি সংলগ্ন তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের রানওয়ের পশ্চিম পাশে সুবিন্যস্ত ও বিস্তৃতভাবে এটি স্থাপিত হয় এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

jagonews24.com

খোলা জায়গায় বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করা হেলিকপ্টার ও বিমান দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান বলাকা। রাশিয়ার তৈরি বিমানটি বাংলাদেশে আসে ১৯৫৮ সালে। আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি বোমারু বিমানসহ আরও বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। প্রতি রোববার বন্ধ থাকে জাদুঘরটি।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর

১৯৬৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে কাজ শুরু করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। পরে আগারগাঁওয়ে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর ১৯৮১ সালে এর নিজস্ব ভবন তৈরি হয়। টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ ও সৌরজগৎ দেখার নিয়মিত কর্মসূচি রয়েছে।

jagonews24.com

সাতটি গ্যালারিতে নানা ধরনের নিদর্শন আছে। এই জাদুঘর বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসামগ্রী প্রদর্শনের আয়োজন করে। এটি বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।

বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি করা বিজ্ঞান জাদুঘরের লক্ষ্য বলে জানান বিজ্ঞান জাদুঘরের মহাপরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিজ্ঞান জাদুঘর বা সায়েন্স সেন্টারগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক নীতিগুলো শেখানোর জন্য তৈরি করে। আমরা ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরদর্শনে উৎসাহ দেই। তাদের স্কুল থেকে জাদুঘরে আসা-যাওয়ার জন্য বাস সেবাও দিয়ে থাকি। আমাদের জাদুঘরের লক্ষ্য একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘর

টাকা জাদুঘর বা মুদ্রা জাদুঘর ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। প্রাচীন বাংলা থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের ধাতব মুদ্রা ও কাগজের নোট সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা আছে এখানে। জাদুঘরে স্থান পেয়েছে মুদ্রা সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠের বাক্স ও লোহার সিন্দুক।

jagonews24.com

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও এখানে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। ছাপাঙ্কিত রৌপ্য ও সুলতানি আমলের স্বর্ণমুদ্রা টাকা জাদুঘরের বড় আকর্ষণ। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বৃহস্পতিবার। এতে দর্শনার্থীরা ১ লাখ টাকার প্রতীকী নোটে নিজেদের ছবি খোদাই করারও সুযোগ পাবেন।

স্বাধীনতা জাদুঘর

স্বাধীনতা জাদুঘর ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত দেশের প্রথম এবং একমাত্র ভূগর্ভস্থ (মাটির নিচে অবস্থিত) জাদুঘর। এটি ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং এটি মূলত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন
জাদুঘরে গিয়ে আমরা কী শিখছি?
সোনারগাঁও জাদুঘরে যা যা দেখবেন

জাদুঘরটি সম্পূর্ণ মাটির নিচে নির্মিত। এর ওপরে রয়েছে বিশাল প্লাজা এবং কেন্দ্রস্থলে রয়েছে স্বচ্ছ কাচের তৈরি ৫০ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট স্বাধীনতা স্তম্ব। জাদুঘরের আন্ডারগ্রাউন্ড টেরেসের ছাদ থেকে নিচে পানি পড়ার একটি চমৎকার কৃত্রিম ঝরনা বা জলাধার রয়েছে, যা আলো-ছায়ার এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করে।

jagonews24.com

এখানে মোগল আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় অর্জন পর্যন্ত বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০০টিরও বেশি আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের কাগজের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংবলিত ২৭৩ ফুট দীর্ঘ একটি দীর্ঘতম টেরাকোটা ম্যুরাল বা দেওয়াল চিত্র রয়েছে।

লালবাগ কেল্লা জাদুঘর

বাংলার সুবেদার থাকার সময় সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছলে আজম শাহ ১৬৭৮ সালে লালবাগ দুর্গ তৈরির কাজ শুরু করেন। তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেননি। দুর্গ প্রাঙ্গণের দেওয়ান-ই-আম ও হাম্মাম ভবন এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

jagonews24.com

সতেরো শতাব্দীতে সুবেদার শায়েস্তা খানের বাসভবন হিসেবে এ ভবনটি তৈরি হয়। এর নিচতলার তিনটি ঘর নিয়ে এখন লালবাগ কেল্লা জাদুঘর। এখানে লালবাগ কেল্লাসহ বাংলাদেশের প্রাচীন নিদর্শনগুলোর ছবির পোস্টার, ভিউকার্ড, ফোল্ডার এবং এগুলো নিয়ে লেখা বই বেশ কম দামে পাওয়া যায়। রোববার এ জাদুঘর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

লালবাগ কেল্লা জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. মুখলেছুর রহমান ভূঁঞা জাগো নিউজকে বলেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা কালচার জানতে হলে সবাইকে জাদুঘরে যাওয়া দরকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জাদুঘরে যাওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ, তরুণদের বড় একটি অংশ মোবাইল বা ডিভাইসে আসক্ত।

তিনি বলেন, লালবাগ কেল্লা জাদুঘর ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে গেলে পুরান ঢাকা তথা মোগল আমলের নানান বিষয় সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে।

ঢাকার নগর জাদুঘর

ঢাকা নগরীর ঘটনাবহুল ইতিহাস ও শিল্পসামগ্রীর পরিচয় বিভিন্ন বস্তুগত নিদর্শনের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরতে এবং নাগরিকদের মধ্যে ঐতিহ্য চেতনা সৃষ্টি করতে যাত্রা শুরু করে ঢাকা নগর জাদুঘর। কিন্তু প্রচারণার অভাবে এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জাদুঘরটিতে দর্শনার্থীরা যান না বললেই চলে। অথচ ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানান নিদর্শন রয়েছে এই জাদুঘরে। এছাড়া, ঢাকার ইতিহাস সংবলিত ১০১টি দুর্লভ আলোকচিত্র রয়েছে এই নগর জাদুঘরে।

jagonews24.com

এই জাদুঘরটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের ছয়তলায় বড় একটি হলরুমে অবস্থিত। ১৯৮৭ সালের ২০ জুন প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরে প্রবেশমূল্য মাত্র ২ টাকা। তারপরও জাদুঘরটিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই। দিনে গড়ে ৮-১০ জন দর্শনার্থী সেখানে যান। যাদের অধিকাংশই কৌতূহল নিয়ে জাদুঘরটি দেখতে যান।

জাদুঘর দিবসে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজন

সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন
হারিয়ে গেছে মহাস্থান জাদুঘরের একটি মূর্তি, জানা গেলো ১৯ বছর পর
কড়ি থেকে কাগুজে নোটের সমাহার ‘টাকা জাদুঘর’

এর মধ্যে সকাল ১০টায় শোভাযাত্রা (বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে টিএসসি), বেলা ১১টায় বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন (নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর), সাড়ে ১১টায় আলোচনা সভা (প্রধান মিলনায়তন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর) এবং বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের (প্রধান মিলনায়তন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর) আয়োজন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কিপার আসমা ফেরদৌসি জাগো নিউজকে বলেন, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর জন্যই প্রতি বছর এই দিনটি উদযাপন করা হয়। বর্তমানে জাদুঘরের পরিধি শুধু প্রদর্শন ও সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাদুঘরগুলোর কর্মপরিধি দিন দিন আরও প্রসারিত হচ্ছে।

এমএমএ/এএমএ/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow