‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচিকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচারণামূলক প্ল্যাকার্ড সাঁটানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন সংলগ্ন আইবিএ ভবনের সামনের দেয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এসব প্ল্যাকার্ড সাঁটানো হয়। প্রচারণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা কর্মসূচির প্রচারণায় অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে উদ্যোগটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রচারণা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের তরুণ সমাজ। এই তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার সাহসকে কাজে লাগাতে পারলেই একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শুধু চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে পারে নতুন নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং স্টার্টআপের প্রাণকেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করছি। রাজনীতির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এখানকার শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই নতুন নতুন ধারণা, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এমন একটি পরিবেশে পরিণত হোক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ পাবে।’
তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্র তারুণ্যের শক্তিকে মূল্যায়ন করে, সেই রাষ্ট্রই ভবিষ্যতে বিশ্ব নেতৃত্বে এগিয়ে যায়। তাই তরুণদের কর্মসংস্থান, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকাশে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ছাত্রদল সবসময় ইতিবাচক, সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের পাশে থাকবে।’
তিনি জানান, এই প্রচারণা শুধু একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আত্মনির্ভরশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। আগামী দিনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
উপস্থিত নেতাকর্মীরাও জানান, অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাবেন এবং কর্মসূচির বিভিন্ন দিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন।