তালার বাগমারায় প্রতিবন্ধীর ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বাগমারা গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় অসহায় ওই নারী বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে পাটকেলঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী ফিরোজা খাতুন (৪২) বাগমারা গ্রামের মৃত জব্বর গাজীর কন্যা। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারেন না। তার দাবি, দীর্ঘ কষ্টে ও মানুষের সহযোগিতায় সরকারি দেওয়া ঘরটি মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করেছিলেন। কিন্তু সেই শেষ আশ্রয়টুকুও ভাঙচুর করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, গত ১৭ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তোজাম গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ফিরোজা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে মজলিশ গাজী পুত্র তোজাম গাজী, মোসলেম গাজী পুত্র মফিফুল গাজী ও নিজাম গাজীর পুত্র লিটন গাজীর নাম ভাংচুরের ঘটনায় উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, আমরা দেখেছি কয়েকজন লোক একসঙ্গে এসে তাদের ঘর ভাঙচুর করেছে। আমরা বাধা দিতে
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বাগমারা গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় অসহায় ওই নারী বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে পাটকেলঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী ফিরোজা খাতুন (৪২) বাগমারা গ্রামের মৃত জব্বর গাজীর কন্যা। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারেন না। তার দাবি, দীর্ঘ কষ্টে ও মানুষের সহযোগিতায় সরকারি দেওয়া ঘরটি মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করেছিলেন। কিন্তু সেই শেষ আশ্রয়টুকুও ভাঙচুর করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, গত ১৭ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তোজাম গাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ফিরোজা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে মজলিশ গাজী পুত্র তোজাম গাজী, মোসলেম গাজী পুত্র মফিফুল গাজী ও নিজাম গাজীর পুত্র লিটন গাজীর নাম ভাংচুরের ঘটনায় উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, আমরা দেখেছি কয়েকজন লোক একসঙ্গে এসে তাদের ঘর ভাঙচুর করেছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়।
কান্নাজড়িত কন্ঠ ভুক্তভোগী ফিরোজা বেগম বলেন,
আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, ভিক্ষা করে-না খেয়ে টাকা জমিয়ে আমার ভাঙা ঘরটা মেরামত করেছিলাম। আমার থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। সেই ঘরটা করার সময় ভেঙ্গে দিয়েছে এবং আমাকে মারধর করেছে। আমার পক্ষে কথা বলার মতো কেউ নেই। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, আমি যেন আমি ন্যায়বিচার পাই।
এদিকে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে রুবেল গাজী বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ঘর করতে ছিল, এটি আমাদের যাতায়াতের রাস্তা, তাই পরিবারের সদস্যরা মিলে ঘরটি ভেঙে দিয়েছে। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। তবে আমরা কাউকে মারধর করিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘর ভাঙচুরের ফলে তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধীর পরিবারের ঘরের দেওয়াল ভাঙার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। অভিযুক্তরা তাদের অন্যায় শিকার করেছে এবং নিজ খরচে ঘর সংস্কার করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আর মারধরের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে তবে এলাকাবাসী প্রতিবন্ধী পরিবারের পক্ষে আছে।
এদিকে একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ঘরের দেওয়াল ভেঙ্গার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ।
What's Your Reaction?