তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ও আগামীকাল শুক্রবারের (৭ আগস্ট) মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এদিকে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল থেকে তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।  তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ক

তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ও আগামীকাল শুক্রবারের (৭ আগস্ট) মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল থেকে তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। 

তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও আগামী এক দিন পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদের পানিও বাড়তে পারে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow