তৃতীয় লিঙ্গের বকশিশের হার নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় করলেই ব্যবস্থা

ঢাকার পশ্চিম রামপুরার মহানগর প্রজেক্ট আবাসিক এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের বকশিশ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করেছে স্থানীয় মহানগর আবাসিক সমাজ কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে চাঁদাবাজির মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মহানগর আবাসিক সমাজ কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ এবং তাদের প্রধান ডালিয়ার সঙ্গে সমিতির নেতাদের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, মহানগর প্রজেক্ট আবাসিক এলাকার বাড়িওয়ালা, ফ্ল্যাট মালিক, ভাড়াটিয়া, দোকানদার, ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের কাছ থেকে শুধু সমিতি নির্ধারিত হারে বকশিশ নেওয়া যাবে। নির্ধারিত টাকার বাইরে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা চাঁদা দাবি করা যাবে না। এছাড়া সমিতির অনুমোদিত ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কোনো হিজড়া ওই এলাকায় বকশিশ তুলতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ, অকথ্য ভাষা ব্যবহার,

তৃতীয় লিঙ্গের বকশিশের হার নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় করলেই ব্যবস্থা

ঢাকার পশ্চিম রামপুরার মহানগর প্রজেক্ট আবাসিক এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের বকশিশ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করেছে স্থানীয় মহানগর আবাসিক সমাজ কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে চাঁদাবাজির মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মহানগর আবাসিক সমাজ কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ এবং তাদের প্রধান ডালিয়ার সঙ্গে সমিতির নেতাদের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, মহানগর প্রজেক্ট আবাসিক এলাকার বাড়িওয়ালা, ফ্ল্যাট মালিক, ভাড়াটিয়া, দোকানদার, ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের কাছ থেকে শুধু সমিতি নির্ধারিত হারে বকশিশ নেওয়া যাবে। নির্ধারিত টাকার বাইরে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা চাঁদা দাবি করা যাবে না।

এছাড়া সমিতির অনুমোদিত ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কোনো হিজড়া ওই এলাকায় বকশিশ তুলতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ, অকথ্য ভাষা ব্যবহার, তালি দিয়ে বিরক্ত করা বা ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করা যাবে না। এমনকি সমিতির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের বিষয়টিও উল্লেখ করে বলা হয়, বকশিশ বা অনুদান দেওয়া কোনো নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সহযোগিতা।

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তা দণ্ডবিধির ৩৮৪ ও ৩৮৫ ধারা অনুযায়ী চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হাতিরঝিল থানায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সমিতির নির্ধারিত হার অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে আড়াই হাজার টাকা, নবজাতক জন্ম উপলক্ষে আড়াই হাজার টাকা এবং রমজানের ঈদে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া যাবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে দোকানদারদের কাছ থেকে ১০০ টাকা এবং মাসে একবার দোকান থেকে ৮০ টাকা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সমিতি জানিয়েছে, নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা সমিতি সংরক্ষণ করে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মহানগর আবাসিক সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা হিজড়াদের বকশিশের হার নির্ধারণ করে দিয়েছি। নির্ধারণ না করে দিলে ওরা (হিজড়ারা) আরও বেশি ধরে। এজন্য আমরা বকশিশের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছি। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি বকশিশ নেওয়া যাবে না।

এমএএস/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow