তেল-আর্থিক খাতের নেতৃত্বে রুবিও, বিলম্বিত গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যরাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর থেকে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শনিবার (১১ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোতেও মার্কো রুবিওর দায়িত্ব বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবিও ভেনেজুয়েলার সরকারি অর্থব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা নীতি, জ্বালানি খাত এবং সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত তদারকি করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ করছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। রুবিও ও তার দলের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কারাকাসে সেই অর্থ বিতরণ করা হয়। এতে আরও দাবি করা হয়, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রি

তেল-আর্থিক খাতের নেতৃত্বে রুবিও, বিলম্বিত গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যরাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর থেকে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

শনিবার (১১ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোতেও মার্কো রুবিওর দায়িত্ব বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবিও ভেনেজুয়েলার সরকারি অর্থব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা নীতি, জ্বালানি খাত এবং সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত তদারকি করছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ করছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। রুবিও ও তার দলের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কারাকাসে সেই অর্থ বিতরণ করা হয়।

এতে আরও দাবি করা হয়, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন রুবিও। এছাড়া জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ, নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি এবং ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনাতেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলাকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি দেশটিতে ৯০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

প্রতিবেদনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়, নতুন করে সহযোগিতা এবং সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা আবারও একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অংশীদার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে দেশটির জনগণ তাদের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পর্কের সুফল ভোগ করবে।

তবে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সমালোচনারও মুখে পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে দেশটির শাসনব্যবস্থার ওপর ওয়াশিংটনের ব্যাপক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অবাধ নির্বাচনের জন্য এখনো কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর কবে হবে, তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

রুবিও বলেছেন, তার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলায় শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা। তবে, গত মাসের ভূমিকম্পের পর তিনি স্বীকার করেন, এই দুর্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এখনো হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow