দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি অনেক তদবির আসছে: নুরুল হক নুর
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে অনেক তদবির আসছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি দেখেছি, বিএমইটির ছাড়পত্রের জন্য অনেক তদবির আসছে। কম্বোডিয়া নিয়ে ব্যাপক তদবির হয়। অথচ কম্বোডিয়া খুব ধনী দেশ না, অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো না। অথচ রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক, কমিউনিটির লোকজন তদবির করেন। তারা বলেন, ‘এটা একটু ছাড় দেন। আমাদেরই তো লোক, গেলেই কর্মসংস্থান।’ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এখন অনলাইন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সিস্টেম (ওপিএস) আছে। এছাড়া দূতাবাস ভেরিফাই করে। তারপর অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেখেছি, কিছু ক্ষেত্রে বিএমইটি থেকে ঠিকমতো যাচাই ছাড়াই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবে মালয়েশিয়ার মার্কেট বন্ধ, এটাকে ‘সিন্ডিকেটে’ বলবেন নাকি ‘ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম’ বলবেন, যাই বলেন তাদের কন্ডিশনে যদি আমরা এগ্রি না করি, তাহ
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে অনেক তদবির আসছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি দেখেছি, বিএমইটির ছাড়পত্রের জন্য অনেক তদবির আসছে। কম্বোডিয়া নিয়ে ব্যাপক তদবির হয়। অথচ কম্বোডিয়া খুব ধনী দেশ না, অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো না। অথচ রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক, কমিউনিটির লোকজন তদবির করেন। তারা বলেন, ‘এটা একটু ছাড় দেন। আমাদেরই তো লোক, গেলেই কর্মসংস্থান।’
বুধবার (৬ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এখন অনলাইন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সিস্টেম (ওপিএস) আছে। এছাড়া দূতাবাস ভেরিফাই করে। তারপর অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও দেখেছি, কিছু ক্ষেত্রে বিএমইটি থেকে ঠিকমতো যাচাই ছাড়াই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবে মালয়েশিয়ার মার্কেট বন্ধ, এটাকে ‘সিন্ডিকেটে’ বলবেন নাকি ‘ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম’ বলবেন, যাই বলেন তাদের কন্ডিশনে যদি আমরা এগ্রি না করি, তাহলে মার্কেট যেভাবে বন্ধ, সেভাবে বন্ধ থাকবে। তবে আমাদের মন্ত্রী কিছুদিন আগে মিটিং করেন, সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, তোমাদের কন্ডিশনে যে ৪২৩টি লাইসেন্স আমরা এখানে দিয়েছি সেগুলো সবার জন্য ওপেন করে দাও। কারণ ওই কন্ডিশনে তারা পাস করেছে। এটা নিয়ে এখনো আমাদের দেনদরবার চলছে। জানি না এটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো।
তিনি বলেন, আমি দেখলাম মালয়েশিয়া শ্রমবাজার প্রথম ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। আবার ২০১৬ সালে চালু হয়। এরপর ২০১৮ সালে ফের বন্ধ হয়। এরপর ২০২১ সালে একটি চুক্তি হয় এবং ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে আবার বন্ধ হয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত বন্ধ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসিফ নজরুল (সাবেক উপদেষ্টা) স্যারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তিনি যেহেতু সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ছিলেন, রাজনৈতিকসহ নানা বিষয় দেখতেন, সেই সুবাদে মালয়েশিয়া শ্রম বাজার নিয়ে ওনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে।
নুর আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদিত। এর মধ্যে ন্যূনতম কিছু ক্রাইটেরিয়া মেনে ৪২৩টি এজেন্সি আছে। তাহলে ধরে নেওয়া যায়, প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানই আসলে এই সেবা দেওয়ার জন্য কোয়ালিফাইড। বাকিগুলো ডিসকোয়ালিফাইড। তারপরও দেখা যায়, অনেকেই বিভিন্নভাবে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে রাখছে। একজনের নামে দু-তিনটা লাইসেন্স আছে। আমার ধারণা, এই ৪৫০–৫০০ এর বাইরেও কিছু লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান প্রতারণা বা স্ক্যামের সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, ‘আমি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে বলেছি, আমার ব্যক্তিগত কোনো পছন্দ নেই। আপনি সৎ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেন। কারণ এই মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ যেমন বিএমইটি, ওয়েজ বোর্ড।’
তিনি বলেন, আমাদের ১০৪টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার আছে। আরও ৫০টা হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ট্রেনিং সেন্টার আছে, কিন্তু প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতো লোক নেই। অনেক এমপি ডিও লেটার দেন। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ট্রেনিং সেন্টার দরকার নেই। তারপরও রাজনৈতিক সুপারিশে দিতে হয়।
নুরুল হক বলেন, এখন আমরা চেষ্টা করছি, যেখানে চাহিদা আছে সেখানে ফ্যাসিলিটি বাড়াতে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে চারটি মিটিং করেছি।
আরএএস/এমএমকে
What's Your Reaction?