দিনশেষে রিকশাচালকরা সেই ‘পেটে ভাতে’, মালিকদের ‘পোয়াবারো’
ধানমন্ডি-৮ নম্বর ব্রিজের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মুড়ির মোয়া খাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী এক রিকশাচালক। দ্রুত দুই-তিন কামড়ে মোয়াটি খেয়ে শেষ করলেন। এরপর রিকশার সিট তুলে বোতল খুলে ঢকঢক করে পান করলেন পানি। পাশের হকারের কাছ থেকে চায়ের কাপ নিয়ে উদাস হয়ে দিচ্ছিলেন চুমুক। নাম রহিদুল ইসলাম, বাড়ি দিনাজপুর। কেমন চলছে জানতে চাইলে বলেন, ‘রোজগার ভালো না। ধানমন্ডি থেকে ২৫০ টাকায় যাত্রী নিয়ে জুরাইন গিয়েছিলাম। ফেরার পথে যাত্রী পাইনি। দুপুরের পর কিছু খাইনি। মাথা ঘুরছিল। ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে মোয়া কিনলাম।’ আরও পড়ুন সরকার বদলায়, বহাল তবিয়তে থাকে রিকশা সিন্ডিকেট রহিদুল আগে রংপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে মাসে শতকরা ১০ টাকা সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। প্রথম দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়। তিনি বলেন, ‘মাল বিক্রি না হওয়ায় অনেক কিছু পচে যেত। সংসারের খরচও ছিল বেশি।’ দিনের ক্লান্তি ও ক্ষুধা নিবারণে চা পান করছেন রহিদুল বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে পুঁজি শেষ। ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যা
ধানমন্ডি-৮ নম্বর ব্রিজের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মুড়ির মোয়া খাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী এক রিকশাচালক। দ্রুত দুই-তিন কামড়ে মোয়াটি খেয়ে শেষ করলেন। এরপর রিকশার সিট তুলে বোতল খুলে ঢকঢক করে পান করলেন পানি। পাশের হকারের কাছ থেকে চায়ের কাপ নিয়ে উদাস হয়ে দিচ্ছিলেন চুমুক।
নাম রহিদুল ইসলাম, বাড়ি দিনাজপুর। কেমন চলছে জানতে চাইলে বলেন, ‘রোজগার ভালো না। ধানমন্ডি থেকে ২৫০ টাকায় যাত্রী নিয়ে জুরাইন গিয়েছিলাম। ফেরার পথে যাত্রী পাইনি। দুপুরের পর কিছু খাইনি। মাথা ঘুরছিল। ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে মোয়া কিনলাম।’
রহিদুল আগে রংপুরে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে মাসে শতকরা ১০ টাকা সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। প্রথম দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়। তিনি বলেন, ‘মাল বিক্রি না হওয়ায় অনেক কিছু পচে যেত। সংসারের খরচও ছিল বেশি।’
দিনের ক্লান্তি ও ক্ষুধা নিবারণে চা পান করছেন রহিদুল
বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে পুঁজি শেষ। ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। ঋণ শোধের আশায় রংপুরেই ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো শুরু করেন। কিন্তু আয় ছিল অনিয়মিত, যাত্রীও কম।
কিস্তি আর সংসার- এ দুটো একসঙ্গে টানা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিন মাস আগে ঢাকায় আসেন। বর্তমানে রায়েরবাজার ট্যানারি মোড়ে পরিচিত এক চালকের কাছ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে চালান।
কম বিনিয়োগে বেশি লাভের আশায় অনেক মালিক সাধারণ রিকশাকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান্ত্রিক রূপান্তর করছেন। সেখানে নিরাপত্তার চেয়ে আর্থিক লাভই মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।-বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান
ঢাকায় প্রতিদিন ৫শ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো দিন আয় হয় ১ হাজার, কোনো দিন ১২শ, কোনো দিন ১৫শ। কিন্তু জমা, চার্জিং, খাবার আর মেরামত বাদ দিলে হাতে থাকে সামান্যই। একজন মালিকের ১০টি রিকশা থাকলে তার দৈনিক আয় ৫ হাজার টাকা শুধু জমা বাবদ। এর বাইরে অনেক মালিকের গ্যারেজ আছে সেখানে থাকার জন্যও অনেক সময় গুনতে হয় আলাদা টাকা। ডাম্পিং হলে সেই জরিমানাও দিতে হয় চালককে। মালিক স্বল্পসময়ে ফুলে-ফেঁপে টাকার মালিক হলেও চালকদের ভাগ্যের খুব বেশি পরিবর্তন হয় না।
কামরাঙ্গীরচরের মনু মিয়া। ভোর ৫টায় গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হন। রাস্তায় নামার পর থেকে তার প্রথম লক্ষ্য দ্রুত ৭৫০ টাকা আয় করা। এর মধ্যে ৪শ টাকা জমা আর বাকিটা তিন বেলার খাবার। এরপর সংসারের বাড়তি চিন্তা।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনু মিয়া বলেন, ‘একদিন রাস্তায় না নামলে সেদিনের খাওয়া বন্ধ।’

ঢাকার সড়কের নতুন ‘যমদূত’
তিনি জানান, আগে গ্যারেজ মালিকের ঢালা বিছানায় বিনা ভাড়ায় ১৫ থেকে ২০ জন চালক একসঙ্গে থাকতেন। কিন্তু ছারপোকার কামড়ে রাতে ঘুম আসতো না। এখন মাসিক তিন হাজার টাকায় রুম ভাড়া নিয়ে কয়েকজন মিলে থাকেন। যে মাসে রুমমেট কম থাকে সে মাসে মাথাপিছু ভাড়া বেশি পড়ে।
মনু মিয়া বলেন, ‘দৈনিক আয় ১২ থেকে ১৫শ টাকা হলেও জমা, খাবার, চার্জিং, মেরামত, বাসাভাড়া ও ঋণের কিস্তি বাদ দিলে কখনো ৫শ, কখনো ৪শ টাকা থাকে। অসুস্থ হয়ে পড়লে সেটুকুও উধাও। একবার দুর্ঘটনায় হাত কেটে গিয়েছিল। তিনদিন কাজ বন্ধ ছিল। ওই তিন দিন খেয়ে না খেয়ে কেটেছিল।’।
সড়কে দাপিয়ে বেড়ালেও তাদের আছে অনেক লুকানো কষ্ট
রিকশাচালকদের জমার বিষয়ে কথা হয় গ্যারেজ মালিক হোসেন আলীর সঙ্গে। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের বিল আর ব্যাটারির খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই জমা কমানো সম্ভব না।’
রাতে আছে ঝুঁকি
ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় আর সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের আতঙ্ক প্রত্যেক চালককে সারাক্ষণ তাড়া করে। রাত গভীর হলে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রতি মাসেই রিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানান চালকরা।
২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর। পল্টনের জিপিও মোড়ে রাত ১২টার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মেহেদী। এক ব্যক্তি উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ অর্থপ্রবাহ বিশাল হলেও এটি কার্যত অদৃশ্য অর্থনীতি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিনের জমাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে চালকেরা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সঞ্চয় গড়তে পারছেন না। এ খাতের শ্রমিকদের কোনো সামাজিক সুরক্ষাও নেই।-সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মো. খালিদ মাহমুদ
পরে জানা যায়, গুলিস্তান থেকে যাত্রীবেশে দুই যুবক মেহেদীর অটোরিকশা ভাড়া করেন। রিকশায় করে পল্টনের জিপিও মোড়ে আসার পর পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেহেদীকে আঘাত করা হয়। এতে মেহেদী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তার রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান যাত্রীবেশে থাকা দুই যুবক।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে জিন্দা মন্ডল নামে এক রিকশাচালক নিহত হন। তাকে মধ্যরাতে ছুরিকাঘাত করে রিকশা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে তার ছেলের বরাতে জানা যায়, রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সূত্রাপুর দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ছিনতাইকারীরা গতিরোধ করে রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাবা বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যান।
এমন আতঙ্ক নিয়ে রাতে রিকশা চালাতে হয় বলেও জানান অনেক চালক। আবার অনেকে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের কাজেও ব্যবহার করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকরা থাকেন অসহায়।
বিশ্রাম নিচ্ছেন মনু মিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র রিমন হোসেন মণ্ডলের ভাগ্য ভালো ছিল না। মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বন্ধুর বাসা থেকে ভোরে রওয়ানা দেন ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। কোনো যানবাহন না থাকায় হেঁটেই যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ পেছন থেকে তিন কিশোর চাপাতি নিয়ে এসে গলা ও পেটের কাছে ধরে। এরপর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার সময় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কয়েকবার এসে ওই রাস্তার সামনে দিয়ে ঘুরতে থাকে। এরপর ছিনতাই শেষে ওই রিকশায় করেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ করলেও চালক এবং ছিনতাইকারীরা শনাক্ত হয়নি।
অদৃশ্য এক বিশাল অর্থনীতি: যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
রহিদুল বা মনু মিয়ার গল্প আসলে একটি বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষুদ্রতম অংশ। সিপিডির গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে। বিভিন্ন এলাকার চালকদের সঙ্গে আলাপ করে এই প্রতিবেদক যে চিত্র পান তা অনেকটা এমন-
একজন চালক গড়ে দৈনিক আয় করেন প্রায় ১৫শ টাকা। এর মধ্যে জমা ও চার্জিং বাবদ যায় ৫শ টাকা, তিন বেলার খাবার ও হাত খরচে আরও ৪শ টাকা। দিন শেষে হাতে থাকে গড়ে ৬শ টাকা।

চাকার নিচে পিষ্ট ঢাকা
এই হিসাবে ২০ লাখ রিকশা ঘিরে দৈনিক লেনদেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মাসে প্রায় ৯ হাজার কোটি এবং বছরে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া ইনোভিশন কনসালটিংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় একটানা বসে এই রিকশা চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে কোমর ব্যথা, স্থূলতা ও মেরুদণ্ডজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।-জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান
এ বিপুল অর্থপ্রবাহের পুরোটাই চলছে সরকারি হিসাবের বাইরে। কোনো নিবন্ধন নেই, কর নেই, তদারকি নেই। এ বিপুল অর্থপ্রবাহের পেছনে কাজ করছে অনিয়ন্ত্রিত মালিকানা ও দ্রুত মুনাফার প্রবণতা। রিকশার চালকদের শোষণ করে মালিকরা ঠিকই মোটা টাকা আয় করছেন। যে আয়ে সরকারের কোনো হিস্যা নেই।
বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কম বিনিয়োগে বেশি লাভের আশায় অনেক মালিক সাধারণ রিকশাকেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান্ত্রিক রূপান্তর করছেন। সেখানে নিরাপত্তার চেয়ে আর্থিক লাভই মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই খাতের বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা থেকে যারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তারা এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে নিরুৎসাহিত করছেন।’
সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মো. খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘এ অর্থপ্রবাহ বিশাল হলেও এটি কার্যত অদৃশ্য অর্থনীতি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের জমাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে চালকরা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সঞ্চয় গড়তে পারছেন না। এ খাতের শ্রমিকদের কোনো সামাজিক সুরক্ষাও নেই।’
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, উচ্ছেদের পরিবর্তে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। নির্দিষ্ট রুট, সময় ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করলে এটি নগর অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।’
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘এটি শুধু পরিবহন নয়, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রমনীতি ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি জটিল বাস্তবতা। অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও শারীরিক চাপ চালকদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া ইনোভিশন কনসালটিংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় একটানা বসে এই রিকশা চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে কোমর ব্যথা, স্থূলতা ও মেরুদণ্ডজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।’
ফেরা যাক সেই রহিদুলের কাছে। প্রত্যেক সপ্তাহে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাচ্চার স্কুলের বেতন দিতে হবে, কবে টাকা পাঠাবে?’ উত্তরে চায়ে চুমুক দেওয়া সেই রহিদুল বলেন, ‘এ সপ্তাহে আয় ভালো হলে পাঠাবো।’
ঋণ শোধ হলে গ্রামে ফেরার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তবে যে আয়-রোজগার তাতে ঋণ কবে শোধ হবে তা জানেন না।
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে বিষফোড়া হয়ে ওঠা এ যানের চালকরা খুব বেশি যে ভালো নেই, সেটাও স্পষ্ট। সংখ্যা বাড়ায় তাদের আয় কমছে, ঋণ বাড়ছে, থমকে যাচ্ছে স্বপ্ন। এদিকে জমা, থাকা-খাওয়ার খরচও বাড়ছে। যে রিকশা বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে ক্রমে ধূসর হচ্ছে সে স্বপ্ন-আশা। পেটে ভাতেই চলছে জীবন। যদিও মালিকদের পোয়াবারো। তারা ফুলে-ফেঁপে হচ্ছেন টাকার মালিক। আসলে চাকার নিচে চাপা পড়ে একটি নগরের নীরব যুদ্ধ, যেখানে জীবিকা মানেই প্রতিদিনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই।
এমইউ/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?


