দুই বছর ধরে বন্ধ নার্সিং কলেজ নির্মাণ, ভবনে মাদকের আড্ডা

মাদারীপুরের শিবচরে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নার্সিং কলেজের কাজ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। টেন্ডার বাতিল হওয়ায় নতুন দরপত্রের অপেক্ষায় পড়ে আছে প্রকল্পটি। আর নির্মাণাধীন ভবনগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১০ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বড়বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৪ সালের শেষে দিকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরবর্তীতে তারা কাজের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আরও পড়ুন রাবির কবরস্থান যেন ‘মাদকসেবীদের আখড়া’ এরপর তাদের আর কোনো কা

দুই বছর ধরে বন্ধ নার্সিং কলেজ নির্মাণ, ভবনে মাদকের আড্ডা

মাদারীপুরের শিবচরে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নার্সিং কলেজের কাজ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। টেন্ডার বাতিল হওয়ায় নতুন দরপত্রের অপেক্ষায় পড়ে আছে প্রকল্পটি। আর নির্মাণাধীন ভবনগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১০ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বড়বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৪ সালের শেষে দিকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরবর্তীতে তারা কাজের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছে।

এরপর তাদের আর কোনো কাজের অগ্রগতি না থাকা ও বিলম্ব হওয়ায় তাদের কার্যক্রম বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে বাকী কাজ করতে হবে বলে জানা যায়। এদিকে গত দুই বছর ধরে নতুন ভবনগুলো পড়ে থাকায় মাদক সেবীদের আড্ডাখানায় পরিণতি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, নার্সিং কলেজের নতুন ভবনের আশেপাশে ঘাস আর লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। এছাড়াও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় চারদিকে মাদকসেবীর মাদক গ্রহণের বিভিন্ন উপকরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাই স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কাজ শেষ করে এটি চালু করা হোক।

স্থানীয় হাসান খান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আমাদের এখানে নির্মাণ করা নার্সি কলেজের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দিনেও এর কাজ শেষ হয়নি। ফলে এখানে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

মফিজ হোসেন নামে আরেকজন বলেন, নার্সিং কলেজটি চালু হলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়তো, মানুষের কর্মসংস্থান হতো, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতো। দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ থাকায় অনেক মূল্যবান জিনিসপত্রও চুরি হয়ে গেছে। তাই দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করে চালুর দাবি জানাই।

মাদারীপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর কাজ শেষ করে এটা চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসজেডএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow