দুবার মিলিয়ন পাউন্ডের লটারি জিতলেন একই ব্যক্তি

একই লারিতে দুবার মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছেন রিচার্ড ডেভিস নামের এক ব্যক্তি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন সৌভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। নিজের এ জয়ের গল্পও তুলে ধরেছেন। এমনকি এ টাকা ব্যয় নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রিচার্ড।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ওই ব্যক্তির লটারি জয়ের গল্প তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।  রিচার্ড বলেন, আমি ১৮ বছর বয়স থেকে লটারি খেলছি। সব সময়ই মনে হতো একদিন বড় কিছু জিতব। আমার সন্তানদের জন্মের পর তাদের জন্মদিন ও জন্মের ওজন দিয়ে নিয়মিত কিছু নম্বর বেছে নেওয়া শুরু করি। ২০১৮ সালের জুনে আমি মিড-ওয়েলসের টালগার্থে আমার হেয়ার সেলুনে এক ক্লায়েন্টের চুলে রং করছিলাম। রং বসার অপেক্ষায় থাকাকালে আমি লটারির টিকিটটা নিয়ে পাশের দোকানে গিয়ে চেক করলাম কিছু জিতেছি কি না। দোকানটা ভীষণ ব্যস্ত ছিল। ছোট শহর হেয়ারড্রেসার হিসেবে লাইনে থাকা প্রায় সবাইকে চিনতাম, তাই গল্প করতে লাগলাম। কাউন্টারের মহিলা আমার টিকিট স্ক্যান করে বললেন,আমি এটা দিতে পারব না, আপনাকে টিকিটটা ফেরত দিচ্ছি। পোস্ট অফিস কাউন্টারের লোকটা বলল, সে চাইলে আমি ৫০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দিতে পারি। তখন তিনি বললেন, না,

দুবার মিলিয়ন পাউন্ডের লটারি জিতলেন একই ব্যক্তি

একই লারিতে দুবার মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছেন রিচার্ড ডেভিস নামের এক ব্যক্তি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন সৌভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। নিজের এ জয়ের গল্পও তুলে ধরেছেন। এমনকি এ টাকা ব্যয় নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রিচার্ড। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ওই ব্যক্তির লটারি জয়ের গল্প তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। 

রিচার্ড বলেন, আমি ১৮ বছর বয়স থেকে লটারি খেলছি। সব সময়ই মনে হতো একদিন বড় কিছু জিতব। আমার সন্তানদের জন্মের পর তাদের জন্মদিন ও জন্মের ওজন দিয়ে নিয়মিত কিছু নম্বর বেছে নেওয়া শুরু করি। ২০১৮ সালের জুনে আমি মিড-ওয়েলসের টালগার্থে আমার হেয়ার সেলুনে এক ক্লায়েন্টের চুলে রং করছিলাম। রং বসার অপেক্ষায় থাকাকালে আমি লটারির টিকিটটা নিয়ে পাশের দোকানে গিয়ে চেক করলাম কিছু জিতেছি কি না।

দোকানটা ভীষণ ব্যস্ত ছিল। ছোট শহর হেয়ারড্রেসার হিসেবে লাইনে থাকা প্রায় সবাইকে চিনতাম, তাই গল্প করতে লাগলাম। কাউন্টারের মহিলা আমার টিকিট স্ক্যান করে বললেন,আমি এটা দিতে পারব না, আপনাকে টিকিটটা ফেরত দিচ্ছি। পোস্ট অফিস কাউন্টারের লোকটা বলল, সে চাইলে আমি ৫০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দিতে পারি। তখন তিনি বললেন, না, এর চেয়ে বেশি। লাইনে সবাই জানতে চাইছিল, ও কী জিতেছে?

তিনি জানান, আমি তখনও কিছু জানতাম না। তিনি বলেছিলেন আমি র‍্যাফেল প্রাইজ জিতেছি, কিন্তু সেটা কী তা আমি জানি না। আমি আবার সেলুনে ফিরে গিয়ে অনলাইনে দেখলাম। তখনই দেখি আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি।

এ ঘটনার পর আমি আমার পার্টনার ফে-কে ফোন করলাম। সে তখন নাইট শিফটে কাজ করছিল, ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ায় খুব খুশি হয়নি। সে বলল, তুমি কি নিশ্চিত আমরা এক মিলিয়ন জিতেছি? তারপর বলল, হেল্পলাইনে ফোন করতে।

আমি ফোন করলাম, তারা নিশ্চিত করল যে আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি এবং পরবর্তী ধাপগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু তখনই আমার ক্লায়েন্টের চুলের টাইমার বেজে উঠল, আমাকে কাজে ফিরে যেতে হলো। এত বড় খবর পেয়েও আবার চুল কাটায় ফিরে যাওয়াটা অদ্ভুত লাগছিল। তবে এতে আমি স্থির থাকতে পেরেছিলাম।

রিচার্ড জানান, ক্লায়েন্টদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে নানা চিন্তায় আমার মাথা ঘুরছিল। কাজ শেষে আবার ফোন করে নিশ্চিত হলাম। আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই ভাবে, এক মিলিয়ন পেলে এটা করব, ওটা করব। কিন্তু সত্যি জেতার পর ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। অনেক দিন পর্যন্ত এটা বাস্তব মনে হয়নি।

তিনি জানান, আমি অনেক দিন টাকায় হাত দিইনি। খরচ করতে ভয় লাগত। প্রথমে আমাদের চার সন্তানকে কিছু টাকা দিলাম। তারপর আমরা যে বাড়িটা ভাড়া নিয়ে থাকতাম সেটা কিনলাম, নতুন গাড়ি কিনলাম, আর কুকুরদের জন্য দৌড়ানোর মাঠ নিলাম। এরপর বিয়ে করলাম। ১০ বছর একসঙ্গে থেকেও আমরা কখনও কোথাও ঘুরতে যাইনি। তাই প্রথমে দুবাই গেলাম, তারপর মধুচন্দ্রিমায় মালদ্বীপ গিয়েছিলাম। স্থানীয় রাগবি ক্লাবের জন্য একটা মিনিবাস কিনে দিলাম, আর বন্ধু-পরিবারকে কিছু গাড়ি উপহার দিলাম।

জেতার পরও আমি লটারি খেলা চালিয়ে গিয়েছিলাম। দোকান থেকে টিকিট কেনার বদলে অ্যাপ ব্যবহার শুরু করি, যেন কেউ প্রশ্ন না করে। আমার মনে হতো আমার নম্বরগুলো ভাগ্যবান, তাই সেগুলোই রাখতাম। অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু সব সময়ই মনে হতো আমি আবারও জিতব।

গত বছরের নভেম্বর মাসে অ্যাপে মেসেজ চেক করলাম। সেখানে দেখি আমি আবারও ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি। তখন ভোর সাড়ে ৬টা, আধো ঘুমে ছিলাম। ফে-কে জাগিয়ে বললাম, আমাকে একটু চিমটি কাটো তো, আমি জেগে আছি কি না দেখি। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।

রিচার্ড জানান, তখন আমি ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। কাজে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বলে, লটারি জিতলে প্রথমেই চাকরি ছাড়বে। কিন্তু প্রথমবার জেতার পরও আমি হেয়ারড্রেসিং চালিয়ে গিয়েছিলাম। আমার ব্যবসা নিয়ে গর্ব ছিল, গ্রাহকদের প্রতিও দায়িত্ববোধ ছিল। পরে ২০২৩ সালে সেলুন বন্ধ করি এবং এক বছর ধরে একটা ক্যাম্পার ভ্যান ঠিকঠাক করি।

কাজ না করা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ছিল না। এক বছর বিরতির পর এক বন্ধু আমাকে কুরিয়ারে চাকরি দেয়। সেদিন সকালে ট্রাকে মাল তুলছিলাম, আর নিজের মনে হাসছিলাম। দুপুরে হেল্পলাইনে ফোন করলাম। প্রথমবার জেতার সময় যে লোকটির সঙ্গে কথা হয়েছিল, তার সঙ্গেই আবার কথা হলো। সে যেমন অবাক, আমরাও তেমনই।

দ্বিতীয়বার জেতার পরও প্রথমেই আমরা আমাদের সন্তানদের টাকা দিলাম। তারপর আমাদের স্বপ্নের বাড়ি কিনলাম। বাকি টাকার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আমরা ছোট একটি কমিউনিটি থেকে এসেছি। সবাই আমাদের চেনে, এবং সবাই আমাদের জন্য খুশি।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুইবার লটারি জেতার সম্ভাবনা বলা হয় প্রায় ২৪ ট্রিলিয়নে একজনের। যদিও সব সময় মনে হতো আবার জিতব। বাস্তবেও এটি সত্যি হয়েছে। যদিও এখনও বিশ্বাস করা কঠিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow