দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না

সরকার এসআরও জারি করে রাজস্ব নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না। তিনি বলেছেন, অতীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এসআরও সংস্কৃতির মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি তৈরি হয়েছিল। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এতে অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বাংল

দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না

সরকার এসআরও জারি করে রাজস্ব নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না।

তিনি বলেছেন, অতীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এসআরও সংস্কৃতির মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি তৈরি হয়েছিল। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সমাজ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এতে অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক পরিকল্পনা, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শুধু আমদানিনির্ভর না থেকে দেশে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে এবং গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত বাফার গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে শস্য, দুধজাত পণ্য, ফল ও ফুলে উদ্বৃত্ত রয়েছে, যেগুলোকে ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে শিল্পায়নের আওতায় আনা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক জরিপে শিল্পায়নের ধীরগতি, নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সংকোচনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত আঞ্চলিক পরিকল্পনার দিকে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগির বিনিয়োগবান্ধব একটি প্যাকেজ ঘোষণা করবে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ সুদের হারে কোনো বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। তাই নীতি সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

হাওর-বাঁওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বন্যা, পলি জমা, স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় মাছের সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে।

রিবহন খাত নিয়ে তিতুমীর বলেন, রেল খাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। দেশীয় সক্ষমতা তৈরির বদলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইএইচটি/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow