নদীর ওপারে কবরস্থান, লাশ দাফনে ভোগান্তি

একদিকে বসতভিটা, অন্যদিকে শেষ ঠিকানা কবরস্থান। আর এই দুয়ের মাঝে বাঁধ সেধেছে সুতিখালী নদী। পাবনার সাঁথিয়ায় নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামে নদী পারাপারের কোনো মাধ্যম না থাকায় পরম আত্মীয়ের লাশটি দাফন করতেও স্বজনদের নামতে হয় কোমরসমান পানিতে, কখনো বা যেতে হয় সাঁতরে। এ যেন মৃত্যুর পরও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির নাম। শুধু লাশের মিছিলেই নয়, গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রাও আটকে আছে এই সুতিখালী নদীতে। নদীর উত্তর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ বিঘা আবাদি জমির ফসল ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত চরম বিড়ম্বনা ও বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি আর দৈনন্দিন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ১০ বছর আগে নাগডেমরা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে সুতিখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অর্থসংকটে কাজটি মাঝপথেই থমকে যায়। ফলে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কংক্রিটের পিলারের কঙ্কালটি এখন কেবলই এলাকাবাসীর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। সেতুর পরিকল্পনাকারী ও সাব

নদীর ওপারে কবরস্থান, লাশ দাফনে ভোগান্তি

একদিকে বসতভিটা, অন্যদিকে শেষ ঠিকানা কবরস্থান। আর এই দুয়ের মাঝে বাঁধ সেধেছে সুতিখালী নদী। পাবনার সাঁথিয়ায় নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামে নদী পারাপারের কোনো মাধ্যম না থাকায় পরম আত্মীয়ের লাশটি দাফন করতেও স্বজনদের নামতে হয় কোমরসমান পানিতে, কখনো বা যেতে হয় সাঁতরে। এ যেন মৃত্যুর পরও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির নাম।

শুধু লাশের মিছিলেই নয়, গ্রামের কৃষিজীবী মানুষের জীবনযাত্রাও আটকে আছে এই সুতিখালী নদীতে। নদীর উত্তর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ বিঘা আবাদি জমির ফসল ঘরে তুলতে প্রতিনিয়ত চরম বিড়ম্বনা ও বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা হোক বা শুষ্ক মৌসুম বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি আর দৈনন্দিন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ১০ বছর আগে নাগডেমরা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে সুতিখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অর্থসংকটে কাজটি মাঝপথেই থমকে যায়। ফলে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কংক্রিটের পিলারের কঙ্কালটি এখন কেবলই এলাকাবাসীর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক।

সেতুর পরিকল্পনাকারী ও সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনদুর্ভোগ কমাতে গ্রামবাসীকে এক করে কাজে হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতায় তা শেষ করতে পারিনি। এখন সরকারিভাবে এটি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

গ্রামের কৃষকদের আক্ষেপ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কপালে জোটেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। নদীর ওপারে যাতায়াত সহজ হলে শুধু কৃষির গতিই বাড়ত না, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যেত।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি গ্রামবাসীর দুর্দশা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুতিখালী নদীর ওই পয়েন্টটি সম্প্রতি পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামবাসীর তোলা অসম্পূর্ণ কলামের ওপর ৯০ মিটারের একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ কারিগরিভাবে সম্ভব নয়। সেখানে সম্পূর্ণ নতুন সেতু করতে হবে। সড়কটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইডি ভুক্ত না থাকায় এতদিন প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। বর্তমানে আইডিভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়াধীন, অনুমোদন পেলেই প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow