নদীর পাড়ে পৌর বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

শেরপুরে প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকায় নির্মিত আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকার পরও পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মৃগী নদীর পাড়ে। এতে নদী দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার হাজারও মানুষ। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ২০২২ সালে শেরপুর পৌরসভার একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণে আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। অথচ পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে, ফেলা হয় মীরগঞ্জের মৃগী নদীর পাশের জমিতে। নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড থাকলেও এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদীসহ পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবেশবাদীরা। আরও পড়ুন দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে নন্দকুজা পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শেরপুর পৌর শহরের নয়টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যেখানে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমিতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি

নদীর পাড়ে পৌর বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

শেরপুরে প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকায় নির্মিত আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থাকার পরও পৌরশহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মৃগী নদীর পাড়ে। এতে নদী দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার হাজারও মানুষ। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

২০২২ সালে শেরপুর পৌরসভার একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণে আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। অথচ পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে, ফেলা হয় মীরগঞ্জের মৃগী নদীর পাশের জমিতে।

নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড থাকলেও এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদীসহ পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবেশবাদীরা।

পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শেরপুর পৌর শহরের নয়টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যেখানে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমিতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য ফেলা হয় মৃগী নদীর তীরে।

স্থানীয়রা বলেন, মৃগী নদীর কাছেই আমাদের বাড়ি। নদীর পানি কালো হয়ে গেছে ময়লা ফেলানোর কারণে। ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাসকষ্ট, কাশি, নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে।

পথচারী আব্দুস সালাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা মানে রীতিমতো যুদ্ধ করা। নাক চেপে ধরলেও গন্ধে যাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা এ গন্ধের কারণে বিকল্প পথ নতুন বাসস্ট্যান্ড হয়ে অথবা জামুর দোকান হয়ে ঘুরে যাতায়াত করেন। অতিরিক্ত সময় লাগলেও এই গন্ধের কারণে তারা এখান দিয়ে আসতে পারেন না।

নদীর পাড়ে পৌর বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর সদস্য ছাইফুল ইসলাম বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বর্জ্য এভাবে মৃগী নদীর পাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলছে। এতে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়রা নানান রোগে ভুগছে। দূষণে মৃগী নদী হতে কয়েক প্রকার দেশি মাছ একেবারে হারিয়ে গেছে। ফলে নদীতে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। দ্রুত পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্পটি বৃহৎ আকারে করতে পারলে এসব আবর্জনাকে সম্পদের পরিণত করা সম্ভব বলে জানান, শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা।

শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘এই বর্জ্য যতদিন পর্যন্ত সম্পদে পরিণত করতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত এটা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমি আশা করবো সরকার যাতে এদিকে দৃষ্টি দেয়। দৃষ্টি দিলে এই দুর্বলতা থেকে আমরা কাটিয়ে উঠবো এবং এটাকে সম্পদে পরিণত করতে পারবো।

শেরপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা জাগো নিউজকে বলেন, খুবই অস্থায়ী ভিত্তিতে ময়লা ফেলছি। খাস জমি খুঁজছি নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য। এর মধ্যেই সরকার এ বিষয়ে আমাদের নিকট পত্র প্রেরণ করেছে। খাস জমি পেলে সেই জমিটাকে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করবো, তখন মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ডটাকে ক্লোজ করে দেবো।

নাঈম ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow