নদীর বুকে শতবর্ষী পিএস মাহসুদে নববর্ষের উচ্ছ্বাস
বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। সেই উৎসব যখন নদীর বুকে ভাসমান এক ঐতিহাসিক স্টিমারে উদযাপিত হয়, তখন তা পায় ভিন্ন মাত্রা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদের ডেকে দিনভর আয়োজন করা হয় বর্ণিল বৈশাখী উৎসব, যার সঙ্গে যুক্ত হয় ফটোগ্রাফির বিশেষ সম্মাননা ‘পর্যটন বিচিত্রা ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’।
ঢাকার সদরঘাট থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রা শুরু করে স্টিমারটি। পানিতে ঘুরতে থাকা বড় বড় চাকা আর পুরনো দিনের কাঠামো যাত্রীদের ফিরিয়ে নেয় নস্টালজিক এক সময়ে। একসময় নদীপথের রাজা হিসেবে পরিচিত এই স্টিমার আজও বহন করছে ঐতিহ্যের সেই গৌরব, যার সঙ্গে মিশে যায় বৈশাখের রঙিন আবহ।
স্টিমারটি সাজানো হয় বৈশাখী মোটিফে—বাঘ, সিংহ, ঘুড়ি ও নানা রঙিন নকশায়। এই সাজসজ্জায় ফুটে ওঠে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
যাত্রার শুরুতে পরিবেশন করা হয় সকালের নাস্তা। এরপর স্টিমারটি চাঁদপুরের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিন নদীর মোহনায় নোঙর করে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজের। দুপুরের মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ ভাজা, গরম ভাত, আলু ভর্তা, ডাল, মাংসসহ নানা বাঙালিয়ানা খাবার এবং শেষপাতে দই। নদ
বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। সেই উৎসব যখন নদীর বুকে ভাসমান এক ঐতিহাসিক স্টিমারে উদযাপিত হয়, তখন তা পায় ভিন্ন মাত্রা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদের ডেকে দিনভর আয়োজন করা হয় বর্ণিল বৈশাখী উৎসব, যার সঙ্গে যুক্ত হয় ফটোগ্রাফির বিশেষ সম্মাননা ‘পর্যটন বিচিত্রা ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’।
ঢাকার সদরঘাট থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রা শুরু করে স্টিমারটি। পানিতে ঘুরতে থাকা বড় বড় চাকা আর পুরনো দিনের কাঠামো যাত্রীদের ফিরিয়ে নেয় নস্টালজিক এক সময়ে। একসময় নদীপথের রাজা হিসেবে পরিচিত এই স্টিমার আজও বহন করছে ঐতিহ্যের সেই গৌরব, যার সঙ্গে মিশে যায় বৈশাখের রঙিন আবহ।
স্টিমারটি সাজানো হয় বৈশাখী মোটিফে—বাঘ, সিংহ, ঘুড়ি ও নানা রঙিন নকশায়। এই সাজসজ্জায় ফুটে ওঠে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
যাত্রার শুরুতে পরিবেশন করা হয় সকালের নাস্তা। এরপর স্টিমারটি চাঁদপুরের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিন নদীর মোহনায় নোঙর করে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজের। দুপুরের মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ ভাজা, গরম ভাত, আলু ভর্তা, ডাল, মাংসসহ নানা বাঙালিয়ানা খাবার এবং শেষপাতে দই। নদীর হাওয়ায় বসে এমন খাবার যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা আবহ ফিরিয়ে আনে।
খাবারের পাশাপাশি পুরো যাত্রাজুড়ে চলেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পীর গান ও পরিবেশনায় স্টিমারের ডেক পরিণত হয় ভাসমান মঞ্চে। বিকেলে যাত্রীদের জন্য ছিল মোয়া, বাতাসাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নাস্তা। এছাড়া মেহেদি আঁকা, লুডু ও ক্যারাম খেলার আয়োজন পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
এদিকে এই উৎসবের মধ্যেই বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ‘পর্যটন বিচিত্রা ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। দেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরতে প্রায় ৫৫০ জন আলোকচিত্রী এতে অংশ নেন। সেখান থেকে বাছাই করে সেরা ১০ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তানভীর অনিক (‘এ ম্যাজিকাল উইন্টার’), দ্বিতীয় হন প্রকাশ মজুমদার (‘এ ফগি উইন্টার মর্নিং’) এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন কিংশুক পার্থ (‘ফিশিং লাভার’)। এছাড়া চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জন করেন নাফিস আমিন, নয়ন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম, জিএম রেজানুল হক, জায়ান খান, বিপুল আহমেদ ও মোহাম্মাদ তারিক হাসান।
বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে যথাক্রমে ১০ হাজার, ৭ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি সবাইকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।