নরসিংদীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

নরসিংদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলা টিপে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এই রায় ঘোষণা করেন।  সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাংগা গ্রামের মোহাম্মদ ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আ. রহিম মিয়ার ছেলে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রূপা বিভিন্ন অজুহাতে সুমির কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা এনে দিলেও কিছুদিন পর পুনরায় আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন রূপা। সুমির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। নির্যাতন ও স্বামীর দাবির মুখে সন্তান ও সংসারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান এবং

নরসিংদীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
নরসিংদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলা টিপে ও পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এই রায় ঘোষণা করেন।  সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আবদুল রহিম মিয়ার ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাংগা গ্রামের মোহাম্মদ ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আ. রহিম মিয়ার ছেলে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রূপা বিভিন্ন অজুহাতে সুমির কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা এনে দিলেও কিছুদিন পর পুনরায় আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন রূপা। সুমির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। নির্যাতন ও স্বামীর দাবির মুখে সন্তান ও সংসারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান এবং প্রবাসে অর্জিত সমুদয় অর্থ স্বামী রূপার কাছেই পাঠান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর স্বামী রূপা মোটরসাইকেল কিনবে বলে সুমিকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে সুমি স্বামীর কাছে দেশে পাঠানো টাকার হিসাব  চাইলে তাদের মধ্যে পুনরায় কথা-কাটাকাটি হয়। ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে স্বামী রূপা পিটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করে সুমির লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে চলে যান। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ সুমির লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। গত ২০ নভেম্বর নিহতের পিতা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আজ (৩০ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow