নাটোরে ৭ হিন্দু পরিবারে হুমকিপত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঠিকানা

নাটোরের লালপুরে বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় সাত পরিবারকে রাতের আঁধারে চিঠি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা চাওয়ার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার উৎস খুঁজতে গিয়ে খুলনার পাইকগাছার এমন এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে, যিনি কোনোদিন নাটোরই যাননি। পেশায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বাড়ি বাড়ি ফেলে যাওয়া চিঠিতে যে নম্বর দেখা গেছে, সেই নম্বরটি পাইকগাছার ওই ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা। কিন্তু কীভাবে তার এনআইডি দিয়ে এভাবে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সিম ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে তিনি অন্ধকারে। চিঠিতে থাকা নম্বরের বিকাশ অ্যাকাউন্টের নাম দেখা গেছে ‘মোহেলা বেগম’। ডিবির একটি সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, নম্বরটি ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। বিকাশের নাম নারীর হলেও, এনআইডির নাম আবার পুরুষের। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সেভেন স্টার নামে কথিত একটি দুর্বৃত্ত দল কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়িতে চিঠি ফেলে যায়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় চিরকুটে। রোববার (২ আগস্ট) রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পরিবারের দুজন সদস্যের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একজন বলেন, ‘প্রথমে আমার ছেলে ব্যালকনিতে

নাটোরে ৭ হিন্দু পরিবারে হুমকিপত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ঠিকানা
নাটোরের লালপুরে বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় সাত পরিবারকে রাতের আঁধারে চিঠি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা চাওয়ার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার উৎস খুঁজতে গিয়ে খুলনার পাইকগাছার এমন এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে, যিনি কোনোদিন নাটোরই যাননি। পেশায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বাড়ি বাড়ি ফেলে যাওয়া চিঠিতে যে নম্বর দেখা গেছে, সেই নম্বরটি পাইকগাছার ওই ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা। কিন্তু কীভাবে তার এনআইডি দিয়ে এভাবে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সিম ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে তিনি অন্ধকারে। চিঠিতে থাকা নম্বরের বিকাশ অ্যাকাউন্টের নাম দেখা গেছে ‘মোহেলা বেগম’। ডিবির একটি সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, নম্বরটি ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। বিকাশের নাম নারীর হলেও, এনআইডির নাম আবার পুরুষের। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সেভেন স্টার নামে কথিত একটি দুর্বৃত্ত দল কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়িতে চিঠি ফেলে যায়। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় চিরকুটে। রোববার (২ আগস্ট) রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পরিবারের দুজন সদস্যের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। একজন বলেন, ‘প্রথমে আমার ছেলে ব্যালকনিতে চিঠি পায়। পরে আরও কয়েকটি পরিবার একই চিঠি পাওয়ার কথা বলে। এখন পর্যন্ত সাতটি বাড়িতে এমন চিঠি পাওয়া গেছে।’ চিঠি পাওয়া পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ‘এভাবে নম্বর দিয়ে চাঁদা চাওয়ার কথা না। কোনো পক্ষ দেশে হয়তো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে। নম্বরটি নিশ্চয়ই ফেক (ভুয়া) হবে।’ পুলিশের প্রাথমিক ধারণাও এমন ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, নম্বরটি সর্বশেষ চালু করা হয় হিন্দু পরিবারগুলোর এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। লালপুরে। পাইকগাছার সংশ্লিষ্ট গ্রামের অন্তত ছয়জন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তারা জানিয়েছেন, ওই নামের ব্যক্তি এলাকায় একজনই আছেন। তিনি সাধারণ ঘরের ছেলে। কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য কর্মী ছিলেন না। যার নামে সিমটি রেজিস্ট্রেশন করা, তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বিস্তারিত শুনে বলেন, ‘নাটোর কোন দিক, সেটাই ভাই আমি জানি না। হোয়াটসঅ্যাপে আপনি যে এনআইডি পাঠিয়েছেন, সেটা আমারই। কিন্তু ওই নম্বর আমার না।’ ওই ব্যক্তি যে স্কুলে চাকরি করেন, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কালবেলা অনলাইনকে বলেন, ‘আপনি যার কথা বলছেন, সে খুবই ভালো ছেলে। নিয়মিত স্কুল করছে। তার পক্ষে খুলনা থেকে নাটোর গিয়ে এই কাজ করা একেবারেই অসম্ভব।’ সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষের নাম দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সেভেন স্টারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম আশা করি কোনো বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন জীবন গেলে আপনাদের পরিবারের ভালো মনে ২০,০০০ দিয়ে দিবেন। কোনো মানুষকে জানাবেন না যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আপনাদের পরিবারের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। সব হিন্দু ধর্ম ও পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দিতে হবে অনেক পরিবার আছে চিঠি পায়নি তারা মনে করে টাকা দিয়ে দিবেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে হবে যদি টাকা দিতে না পারেন তাহলে সময় খুব খারাপ যাবে। সব হিন্দু ধর্ম পরিবারের জন্য চিঠিটা দেওয়া হলো এই চিঠি যে পাবেন সবাইকে বলে দিবেন আপনাদের হিন্দু ধর্ম মধ্যে। আপনাদের পরিবার ভালো রাখার জন্য সেভেন স্টার আপনাদের সব সময় পাশে থাকবে ধন্যবাদ। সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ।’ চিঠির বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকিপত্রের উৎস শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow