নীলদল নিষিদ্ধের দাবি 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' আখ্যায়িত করে তদন্ত কমিটি বাতিলের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সংগঠন 'নীল দল' নিষিদ্ধের দাবি এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে তারা।  শনিবার (১ আগস্ট) এক প্রতিবাদলিপিতে নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এসব দাবি জানান। এতে বলা হয়, ২৮ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় নীল দল নিষিদ্ধের দাবির প্রেক্ষিতে চার সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি। নীল দলের দাবি, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন ও বিশ্বাস অনুযায়ী সংগঠন করার অধিকার রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে নীল, সাদা ও গোলাপি দলের সহাবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ।  প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় নীল দল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৪ সালের কোটা স

নীলদল নিষিদ্ধের দাবি 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' আখ্যায়িত করে তদন্ত কমিটি বাতিলের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সংগঠন 'নীল দল' নিষিদ্ধের দাবি এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে তারা। 

শনিবার (১ আগস্ট) এক প্রতিবাদলিপিতে নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এসব দাবি জানান। এতে বলা হয়, ২৮ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় নীল দল নিষিদ্ধের দাবির প্রেক্ষিতে চার সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি। নীল দলের দাবি, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন ও বিশ্বাস অনুযায়ী সংগঠন করার অধিকার রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে নীল, সাদা ও গোলাপি দলের সহাবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ। 

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় নীল দল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে নীল দলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা। 

নীল দল দাবি করে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয় এবং এটি একটি স্বাধীন শিক্ষক ফোরাম। সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদও নেই। অতীতে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের 'প্রত্যয়' পেনশন স্কিমবিরোধী আন্দোলনেও তারা শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। 

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান প্রশাসন ও সাদা দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকারের জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তদন্ত কমিটি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। 

নীল দলের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কার, চাকরিচ্যুতি, প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা উচ্চশিক্ষার জন্য অশনিসংকেত। এসব সিদ্ধান্ত ও আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান প্রশাসন যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষকদের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। 

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow