নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের বিশেষ ৬ নির্দেশনা
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে মামলায় প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের গড়মিল ধরেন। এ বিষয়ে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এই ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অসৎ উদ্দেশে বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এ ধরনের প্রক্রিয়া অবলমন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারি করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজসপূর্বক নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার) অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে এমন বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের গড়মিল ধরা পড়ে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে সং
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে মামলায় প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের গড়মিল ধরেন। এ বিষয়ে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এই ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অসৎ উদ্দেশে বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এ ধরনের প্রক্রিয়া অবলমন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারি করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজসপূর্বক নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার) অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে এমন বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের গড়মিল ধরা পড়ে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালত দৃষ্টিগোচরে নেওয়ার পর, ওই আদালতে তালিকাভুক্ত অন্য অনেক মামলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। যা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের জন্য এ ধরনের প্রক্রিয়া অবলমন করা হয়। পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজকের ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ নম্বর আইটেমগুলো ডিলিট করেন।
এছাড়াও, দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় শনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবীদের মধ্যেও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। ফলশ্রুতিতে কোনো মামলায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে শনাক্ত করা অত্র অফিসের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ে। কিছু ব্যক্তির এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আইনজীবী সমাজ ও দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অহেতুক বিব্রত/সমালোচনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিচারিক স্বচ্ছতার স্বার্থে অত্র অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে-
১) মূল পিটিশনে শনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী একই বিজ্ঞ আইনজীবী হতে হবে।
২) কোনো মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন করার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে এই অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে।
৩) এই অফিসের জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত হতে হবে।
৪) এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের (ব্লু কপি) ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠাসহ এই অফিসে নোটিশ জমা দিতে হবে।
৫) কোনো আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে এই অফিসে নতুন নোটিশ দেওয়ার সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিলকৃত মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।
৬) চলতি মাসের ১৪ তারিখ থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
এফএইচ/এএমএ
What's Your Reaction?