নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬৬ জেলে

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করেছে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। দুই মাসব্যাপী এ অভিযানে শতাধিক জেলে আটক, কোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ এবং অসংখ্য নৌকা আটক করা হয়েছে। মোহনপুর নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬০টি মামলা ও ৭টি প্রসিকিউশন দায়ের করা হয়েছে।  এ সময় ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১ কোটি ৬৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১ হাজার ২০০ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ৪২টি নৌকা, ৭টি বাল্কহেড আটক এবং ১৭৩৫ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করে রাখা ৩৫টি ঝোঁপ/ছোপ অপসারণ করা হয়েছে। সরেজমিনে জেলেপাড়ায় গিয়ে কয়েকজন জেলে জানান, নৌ পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে নিষেধাজ্ঞাকালে নদীতে নামতে পারেননি তারা। এতে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তবে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এ আশাও প্রকাশ করেন তারা। ষাটনল এলাকার জেলে টিটু বর্মন বলেন, নদীতে নামার সুযোগ পাইনি। নৌ পুলিশের অভিযান অনেক কঠোর ছিল। কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে মাছ বেশি পাওয়া গেলে আমাদেরই

নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬৬ জেলে

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করেছে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। দুই মাসব্যাপী এ অভিযানে শতাধিক জেলে আটক, কোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ এবং অসংখ্য নৌকা আটক করা হয়েছে।

মোহনপুর নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬০টি মামলা ও ৭টি প্রসিকিউশন দায়ের করা হয়েছে। 

এ সময় ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ১ কোটি ৬৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ১ হাজার ২০০ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ৪২টি নৌকা, ৭টি বাল্কহেড আটক এবং ১৭৩৫ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করে রাখা ৩৫টি ঝোঁপ/ছোপ অপসারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জেলেপাড়ায় গিয়ে কয়েকজন জেলে জানান, নৌ পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে নিষেধাজ্ঞাকালে নদীতে নামতে পারেননি তারা। এতে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তবে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এ আশাও প্রকাশ করেন তারা।

ষাটনল এলাকার জেলে টিটু বর্মন বলেন, নদীতে নামার সুযোগ পাইনি। নৌ পুলিশের অভিযান অনেক কঠোর ছিল। কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে মাছ বেশি পাওয়া গেলে আমাদেরই লাভ হবে।

মোহনপুর এলাকার জেলে আবুল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে টিকতে পারিনি। তবে এখন নদীতে ইলিশের আশা নিয়েই নেমেছি।

মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, জাটকা রক্ষা অভিযানকে আমরা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় হিসেবে দেখিনি, এটি ছিল ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদন ও নদীকেন্দ্রিক জীবিকা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে মোহনপুর নৌ পুলিশ দিন-রাত মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অনেক জেলে শুরুতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করলেও কঠোর নজরদারির কারণে তারা নদীতে নামতে পারেনি। 
তিনি বলেন, আমরা অবৈধ কারেন্ট জাল, বেহুন্দী জাল ও বিভিন্ন মাছ ধরার ফাঁদ জব্দ করেছি। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতেও কাজ করেছি, যাতে তারা বুঝতে পারে আজকের জাটকা রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে নদীতে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। তারপরও নৌ পুলিশের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক সময় গভীর রাতে দুর্গম চরাঞ্চলেও অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনোভাবেই যেন অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা নিধন না হয়। ভবিষ্যতেও নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow