নড়াইলের সড়কে ফসল মাড়াই ও শুকানো: বাড়ছে দুর্ঘটনা, দুর্ভোগে যাত্রীরা
নড়াইল জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে মৌসুমি ফসল মাড়াই ও শুকানোর কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, যাত্রী ও পথচারীরা। নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার সাথে জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান সড়কসহ গ্রামের অধিকাংশ সড়ক কৃষকদের মৌসুমি ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কের ওপর ফসল ছড়িয়ে রাখায় দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর এসব সড়ক যেন ধীরে ধীরে অবৈধ উঠানে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কগুলো অবৈধ উঠানে পরিণত হওয়ায় বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাকা ফসলের ওপর পিছলে গিয়ে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, যানবাহনগুলোর গন্তব্যে পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। এ বছরের ১১ মার্চ কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নে সড়কে ফসল শুকাতে দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ট্রলি চালকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে।নড়াইল-গোবরা-সিঙ্গাশোলপুর-পেড়লি-মানিকগঞ্জ-মাইজপাড়া, লোহাগড়া-লাহুড়িয়া-মিঠাপুর-রায়গ্রাম, কালিয়া-চাপাইল-বড়দিয়া সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের ওপর আউস, আমন, বোরো, খেসাড়ি-মসুর ডা
নড়াইল জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে মৌসুমি ফসল মাড়াই ও শুকানোর কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, যাত্রী ও পথচারীরা।
নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার সাথে জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান সড়কসহ গ্রামের অধিকাংশ সড়ক কৃষকদের মৌসুমি ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কের ওপর ফসল ছড়িয়ে রাখায় দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর এসব সড়ক যেন ধীরে ধীরে অবৈধ উঠানে পরিণত হয়েছে।
মহাসড়কগুলো অবৈধ উঠানে পরিণত হওয়ায় বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাকা ফসলের ওপর পিছলে গিয়ে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, যানবাহনগুলোর গন্তব্যে পৌঁছতেও দেরি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। এ বছরের ১১ মার্চ কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নে সড়কে ফসল শুকাতে দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ট্রলি চালকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে।
নড়াইল-গোবরা-সিঙ্গাশোলপুর-পেড়লি-মানিকগঞ্জ-মাইজপাড়া, লোহাগড়া-লাহুড়িয়া-মিঠাপুর-রায়গ্রাম, কালিয়া-চাপাইল-বড়দিয়া সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের ওপর আউস, আমন, বোরো, খেসাড়ি-মসুর ডাল, গমসহ মৌসুমের বিভিন্ন ফসল এখন নিয়মিত রাস্তার উপরই মাড়াই ও শুকানো হচ্ছে। এসব সড়ক হয়ে উঠেছে উঠান। সড়কের একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহনগুলো সরু পথে চলতে বাধ্য হচ্ছে, যা মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রায়শই সতর্কবার্তা দিলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে মৌসুমি ফসল শুকানোর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
গাড়ির চালক, যাত্রী ও পথচারীরা জানান, "সড়কে ফসল শুকানো এখন অনেকটা 'চলতি সংস্কৃতি' হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কে ফসল শুকানোর প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কৃষকদের হাতে লাঞ্ছিতের শিকার হতে হয়। দুর্ভোগ মেনে নিয়ে সড়কে চলতে হচ্ছে। ফলে গাড়ির চাকা ও মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ফসল জড়িয়ে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়, আবার যানবাহনেরও ক্ষতি হয়ে থাকে।"
অটোরিকশা চালক রাইহান মোল্যা বলেন, "সড়কগুলোর ওপর সারা বছরই বিভিন্ন ফসল মাড়াই ও শুকানো হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের যন্ত্রাংশেরও ক্ষতি হচ্ছে।"
নিরাপদ সড়ক চাই নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ খায়রুল আলম বলেন, "রাস্তার ওপর ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ জেলায় বিগত দিনে সড়কে ফসল শুকানোর কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে শত শত মানুষ। জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন করে সড়কে ফসল মাড়াই বন্ধ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।"
What's Your Reaction?