পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৯ দফা দাবিতে ৩০ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (০১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কলাপাড়া উপজেলা সীমান্তের ছয়লেন সড়ক থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত প্লেকার্ড হাতে এ মানববন্ধন করেন তারা।
এসময় কুয়াকাটা-ভাঙা ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণসহ ৯ দফা এবং জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয় এসব মানুষ।
এদিন সকাল থেকেই নাগরিক সমাজের আয়োজনে উপজেলার প্রবেশদ্বার সিক্সলেন এলাকা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত একযোগে চলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা পর্যন্ত।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হাজারো দাবি সংসদে বাজেট হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দক্ষিণাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি হুমায়ুন শিকদার কালবেলাকে বলেন, অপার সম্ভাবনাময় উপজেলা কলাপাড়াসহ গোটা বরিশাল অঞ্চল। এই দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা ঘিরে ব্যপক পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। যা নিয়ে আমাদের এমপি মহোদয় সংসদে কথা বলেছেন। আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন মহাসড়কে তাজা প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে। অথচ সিক্স-লেন উন্নতি কারণে আমাদের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কিন্তু কুয়াকাটার কথা বিবেচনা করে হলেও এটা ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা আজ দলমত নির্বিশেষে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ৯ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনায় রাস্তায় নেমে এসেছি।
অপর অংশগ্রহণকারী আইনজীবী নাসীর উদ্দিন জানান, বৈষম্য দূর করতে এত এত রক্তপাতের পরেও আমরা বরিশালবাসী কেন সেই বৈষম্যের শিকার হলাম। কেন বাজেটে বৃহত্তর বরিশালে উন্নয়ন বরাদ্দ নেই। নদী বেষ্টিত এলাকায় ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু আজ সেখানে পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুগ্রহ কামনা করছি।
এছাড়া কর্মসূচিতে, শিক্ষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, কৃষক পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ৯ দফা দাবিতে এ মানববন্ধন করেন।
দাবিগুলো হলো- ভাঙা-কুয়াকাটা ছয়লেন মহাসড়ক নির্মাণ, পর্যটনশিল্প বিকাশে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতি করন, কুয়াকাটাই প্রস্তাবিত স্থানে নির্মাণ, ভাঙা রেল স্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ, নদীভাঙন রোধে নির্মাণ, ভোলার গ্যাস দিয়ে গড়ে তোলার জন্য মানববন্ধন করেন অংশগ্রহণকারীরা।