পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখবে: উপদেষ্টা তিতুমীর

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা পালন রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।  সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারাজ: প্রসপেক্টটস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. তিতুমীর বলেন, এ প্রকল্প জিডিপিতে ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ প্রভাব রাখবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হবে বলে আশা করছি। ২০২৯ সালের মধ্যে এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে পানি ব্যবস্থাপনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৭ সাল বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার একমাত্র মাইলফলক। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদেশিরা অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। যেমন- ডেল্টা প্ল্যান বলে একটা পরিকল্পনা হয়েছে; যা আসলেই বাংলাদেশের জন্য কতটুকু প্রয়োজনীয় সেই বিবেচনা করা হয়নি। আরও পড়ুন বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম / পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা পররাষ্ট্রন

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখবে: উপদেষ্টা তিতুমীর

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা পালন রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারাজ: প্রসপেক্টটস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, এ প্রকল্প জিডিপিতে ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ প্রভাব রাখবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হবে বলে আশা করছি। ২০২৯ সালের মধ্যে এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে পানি ব্যবস্থাপনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৭ সাল বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার একমাত্র মাইলফলক। এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদেশিরা অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। যেমন- ডেল্টা প্ল্যান বলে একটা পরিকল্পনা হয়েছে; যা আসলেই বাংলাদেশের জন্য কতটুকু প্রয়োজনীয় সেই বিবেচনা করা হয়নি।

মানুষ ও প্রকৃতির কথা বিবেচনা করে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে দাবি করে এ উপদেষ্টা বলেন, সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজকে দেখতে হবে।

‘অনেক কিছু বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে পদ্মা ব্যারাজের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে রূপান্তরিত নকশায় কাজটি হবে’—যোগ করেন তিনি।

ড. তিতুমীর বলেন, আমরা পাঁচটি নদী নিয়ে কাজ করছি। এসব নদীর জীবন ফিরিয়ে আনা হবে। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এলাকার পানির লবণাক্ততা কমাতে এ উদ্যোগ কাজ করবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীর পলি অপসারণ করে যশোরের ভবদহসহ অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা হ্রাস করা এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। আমাদের অনেক পানি আছে, আবার পানি নাই। আমাদের পানি সংরক্ষণ করতে হবে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা ও এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর নতজানু হবে না’ এমন বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।

নদী ও পানিবণ্টন বিষয়ে দেশীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এতদিন ধরে নদীবণ্টন ও পানি সমস্যা সমাধানের কথা চিন্তা করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে কোনোভাবে হোক এ সমস্যাটা সমাধান করতে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পানির বিষয়ে যে আচরণ—পানিবণ্টন বিষয়ে আমাদের যে অবস্থান, অন্য কোনো দেশের স্বার্থ অনুযায়ী আমরা সে অবস্থান নেবো না। বাংলাদেশের জনগণ ও প্রাণ-প্রকৃতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, আমরা সেগুলো নিতে পিছপা হবো না।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল করপোরেশন ফাউন্ডেশন এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশ্যালজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী প্রমুখ।

এসএম/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow