পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ড্রেজিং, জরিমানা ৫০ লাখ টাকা

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল (জেভি)-কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে রোববার অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সড়ক ও জ

পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ড্রেজিং, জরিমানা ৫০ লাখ টাকা

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল (জেভি)-কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে রোববার অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সড়ক ও জনপথ অংশ) মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস রোড নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় ভরাটের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল (জেভি)-কে মহেশখালী চ্যানেল সংলগ্ন উপকূলের হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেয় জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। গত ২ এপ্রিল কিছু শর্তসাপেক্ষে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন না করেই মহেশখালী চ্যানেল ও উপকূলীয় এলাকা থেকে ব্যাপক পরিসরে বালু উত্তোলন শুরু করে। শুধু তা-ই নয়, জেলা প্রশাসনের দেওয়া ১৩টি শর্তের অধিকাংশই মানা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের কারণে চ্যানেলের তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেন, এত বড় পরিসরে বালু উত্তোলনের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক ছিল। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মহেশখালীর উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে পরিবেশগত সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার দাবি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এ জরিমানাকে পরিবেশ আইন বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, ভবিষ্যতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন রোধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow