‘পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের পেসাররা এগিয়ে’

একটা সময় ছিল, যখন পাকিস্তানের পেস বোলিং ছিল প্রায় বিশ্বসেরা। সেই ৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে সারফরাজ নওয়াজ, ইমরান খান, তাহির নাক্কাশ, সিকান্দার বখত, আজিম হাফিজ। এরপর ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে ৯০ এর দশকে ওয়াসিম আকরাম, মহসিন কামাল, সেলিম জাফর, জাকির খান, ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদ প্রমুখ দ্রতগতির বোলারকে ক্রিকেট দুনিয়ার সবাই চিনত। এর মধ্যে ওয়াসিম, ওয়াকার ও আকিব জাভেদ রীতিমতো বিশ্ব শাসন করেছেন। তাদের তিনজনের হাই-কোয়ালিটি পেস বোলিং আক্রমণের তোড় সামলাতে ঘাম ঝরেছে বিশ্বের প্রায় সব শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের। এরপরও মোহাম্মদ জাহিদ, আতাউর রহমান, শোয়েব আখতার, ওমর গুল, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির, সোহেল তানভিররাও পাকিস্তানের পেস বোলিংয়ের মান ধরে রেখেছিলেন; কিন্তু তারপর থেকেই কোয়ালিটি নিচের দিকে নামতে থাকে। মাঝে-মধ্যে কয়েক বছর আগে শাহিন শাহ আফ্রিদি একা মাথা তুলে দাঁড়ালেও সেভাবে আর কেউ নিজেকে ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। মোহাম্মদ ওয়াসিম, নাসিম শাহ, হারিস রউফ আর মোহাম্মদ আব্বাসরা কেউই পূর্বসূরিদের মানে পৌঁছাতে পারেননি। তাই যে ফাস্ট বোলিংয়ের কারণে পাকিস্তান একসময় ছিল বিপজ্জনক দ

‘পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের পেসাররা এগিয়ে’

একটা সময় ছিল, যখন পাকিস্তানের পেস বোলিং ছিল প্রায় বিশ্বসেরা। সেই ৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে সারফরাজ নওয়াজ, ইমরান খান, তাহির নাক্কাশ, সিকান্দার বখত, আজিম হাফিজ। এরপর ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে ৯০ এর দশকে ওয়াসিম আকরাম, মহসিন কামাল, সেলিম জাফর, জাকির খান, ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদ প্রমুখ দ্রতগতির বোলারকে ক্রিকেট দুনিয়ার সবাই চিনত।

এর মধ্যে ওয়াসিম, ওয়াকার ও আকিব জাভেদ রীতিমতো বিশ্ব শাসন করেছেন। তাদের তিনজনের হাই-কোয়ালিটি পেস বোলিং আক্রমণের তোড় সামলাতে ঘাম ঝরেছে বিশ্বের প্রায় সব শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের।

এরপরও মোহাম্মদ জাহিদ, আতাউর রহমান, শোয়েব আখতার, ওমর গুল, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির, সোহেল তানভিররাও পাকিস্তানের পেস বোলিংয়ের মান ধরে রেখেছিলেন; কিন্তু তারপর থেকেই কোয়ালিটি নিচের দিকে নামতে থাকে।

মাঝে-মধ্যে কয়েক বছর আগে শাহিন শাহ আফ্রিদি একা মাথা তুলে দাঁড়ালেও সেভাবে আর কেউ নিজেকে ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। মোহাম্মদ ওয়াসিম, নাসিম শাহ, হারিস রউফ আর মোহাম্মদ আব্বাসরা কেউই পূর্বসূরিদের মানে পৌঁছাতে পারেননি।

তাই যে ফাস্ট বোলিংয়ের কারণে পাকিস্তান একসময় ছিল বিপজ্জনক দল, সেই ডিপার্টমেন্টটা এখন আর সে অর্থে অমন বিধ্বংসী নয়। তার প্রমাণ, তিন ফরম্যাটে নিকট অতীতে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের সিরিজ পরাজয়।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়, রাওয়ালপিন্ডির সেই স্পোর্টিং পিচেও পাকিস্তানের একজন ফাস্ট বোলারও বাংলাদেশের ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেননি।

এবার শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের যে পেস অ্যাটাক (মোহাম্মদ আব্বাস, হাসান আলি, খুররম শেহজাদ), তার চেয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ধার বেশি। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মোহাম্মদ শরিফুলের সাজানো পেস আক্রমণকে খোদ টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তই সেরা মনে করেন।

টেস্ট সিরিজ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের পেস বোলিংয়ের তুলনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলে ওঠেন, ‘আমার তো মনে হয়, এ মুহূর্তে আমাদের বাংলাদেশের পেস বোলিংটা খানিক এগিয়ে।’

প্রশ্ন উঠল, পাকিস্তান আর বাংলাদেশের পেসারদের যদি তুলনা করেন, তাহলে নিজেদের কোথায় রাখবেন? বাংলাদেশ অধিনায়কের জবাব, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমি বলব যে দুই দলেরই ভালো পেস অ্যাটাক; কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব যে আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাক হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে আছে।’

ঠিক কোথায়, কিভাবে বাংলাদেশের পেসাররা এগিয়ে? সে প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাবও আছে টাইগার অধিনায়কের।

তার কথা,‘হ্যাঁ, এটা সত্য যে, আমরা যখনই পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নিয়ে কথা বলি, তখনই দলটির পেস আক্রমণের কথা উঠে আসে। সন্দেহ নেই, তাদের পেসাররাও ভালো। পাকিস্তানের পেস আক্রমণও বেশ ভালো।

কিন্তু শেষ কয়েক বছর যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন আমাদের বোলাররা যথেষ্ট উন্নতি করেছে। আমাদের পেসাররা এ সময়ের মধ্যে যে বোলিংটা করেছে, তাতে করে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমি অধিনায়ক হয়ে বলতে পারি না। তবে আপনারা বলতে পারবেন। অধিনায়ক হিসেবে আমার দল নিয়ে বলাটা ডিফিকাল্ট। আপনারা আরও ভালো বলতে পারবেন, কোন দলটা বেটার অবস্থানে আছে।’

শান্তর দাবি মোটেই মিথ্যে নয়। দুই বছর আগে বাংলাদেশ যে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে, তাতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের জোড়া বিগ হান্ড্রেড অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া ওপেনার সাদমান (এক ইনিংসে ৯১), মুমিনুল (৫১), লিটন দাস (১৩৮ ও ৫৬), মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া সত্তরোর্ধ্ব ইনিংসও বড় ভূমিকা রেখেছে।

পাশাপাশি প্রথম টেস্টে দুই ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ (প্রথম টেস্টের এক ইনিংসে ৫ উইকেট) আর নাহিদ রানার (৪ উইকেট) বিধ্বংসী বোলিংও টাইগারদের জয়ের পেছনে বড় অবদান রেখেছে।

কাজেই বাংলাদেশের পেসাররা টেস্ট জেতানো শিখেছেন। এরপর পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নাহিদ রানা, শরিফুল, তাসকিন ও মোস্তাফিজরা সাদা বলেও ম্যাচ জেতানো বোলিং করে দলকে জয় এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন।

এআরবি/আইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow