পাচার অর্থ ফেরত আনতে মুক্ত বিনিয়োগ নীতি ঘোষণার দাবি
দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণা ছাড়া বর্তমান অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। এ নীতি বাস্তবায়ন হলে বিদেশে পাচার হওয়া এবং দেশে লুকায়িত অর্থ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্দলীয় ফেডারেশন হিসেবে কাজ করছে জাতীয় আইনজীবী সমিতি। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সামছুল জালাল চৌধুরী, শেখ রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শাহ মো. খসরুজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি অংশগ্রহণ করে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তিনি জানান, ওই সভ
দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণা ছাড়া বর্তমান অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার বিকল্প নেই। এ নীতি বাস্তবায়ন হলে বিদেশে পাচার হওয়া এবং দেশে লুকায়িত অর্থ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্দলীয় ফেডারেশন হিসেবে কাজ করছে জাতীয় আইনজীবী সমিতি।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সামছুল জালাল চৌধুরী, শেখ রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শাহ মো. খসরুজ্জামান লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি অংশগ্রহণ করে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
তিনি জানান, ওই সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত লিখিত বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে তীব্র অর্থসংকট বিরাজ করছে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বাজেটে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কিস্তি ছাড় পেতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি একটি প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কৌশল প্রশংসার দাবি রাখে বলেও উল্লেখ করা হয়।
শাহ খসরুজ্জামান বলেন, প্রচলিত করব্যবস্থা ও আইনগত পরিবেশের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালীরা দেশে অর্থ বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ পরিস্থিতিতে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। নতুন বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর কর অব্যাহতি দেওয়া, বিনা প্রশ্নে নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা, সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা— এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে দেশের মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে।
তার মতে, নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরে আসতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়, অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।
শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, দেশের অর্থবাজার থেকে লক্ষ-কোটি টাকা উধাও এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ হওয়ার কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে হবে। এছাড়া করদাতাদের ওপর চাপ না দিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করার পথ বের করতে হবে।
এফএইচ/এমএএইচ/
What's Your Reaction?