পিনু হত্যা: চারিত্রিক সমস্যা ছিল স্বামীর

দন্ত চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চারিত্রিক সমস্যার অভিযোগ ছিল। পরকীয়ায় জড়িত স্বামীকে অনৈতিক পথ থেকে ফেরাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে স্বামীর আচরণে দাম্পত্য কলহ চললেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্বামীর পরকীয়া ও বিপথগামিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই কাল হয় তার।  পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে শ্বাসরোধ অবস্থায় চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় বাসার জানালার গ্রিল কাটা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, দুর্বৃত্তরা বাসায় লুটপাটের পর ওই চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে তদন্তে আলামত পরীক্ষার পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম গ্রিলের কাটা অংশের জানালার ভেতরের দিকে, বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পায়। পরে বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল পাওয়া যায়। জুতাজোড়া ছিল পিনুর স্বামী সোহেল রানার। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্ম

পিনু হত্যা: চারিত্রিক সমস্যা ছিল স্বামীর

দন্ত চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চারিত্রিক সমস্যার অভিযোগ ছিল। পরকীয়ায় জড়িত স্বামীকে অনৈতিক পথ থেকে ফেরাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে স্বামীর আচরণে দাম্পত্য কলহ চললেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্বামীর পরকীয়া ও বিপথগামিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই কাল হয় তার।  পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বাসা থেকে শ্বাসরোধ অবস্থায় চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় বাসার জানালার গ্রিল কাটা এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, দুর্বৃত্তরা বাসায় লুটপাটের পর ওই চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।

তবে তদন্তে আলামত পরীক্ষার পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিম গ্রিলের কাটা অংশের জানালার ভেতরের দিকে, বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পায়। পরে বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল পাওয়া যায়। জুতাজোড়া ছিল পিনুর স্বামী সোহেল রানার। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন সূত্র পায় পুলিশ।

তদন্তকারীদের ধারণা, সোহেল রানা পরিকল্পিতভাবে পিনুকে হত্যা করে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া আলামতের কারণে দ্রুতই সন্দেহের কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি।

সোহেল রানা একটি ডেভেলপার কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক। পিনুর ১৬ বছর বয়সী ছেলে সালেহীন ওহি একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ১০ বছর বয়সী মেয়ে হাসিন ওয়ামী পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। হত্যাকাণ্ডের সময় দুই সন্তানই বাসার বাইরে ছিল।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিনুর স্বামী সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিষয়টি পিনুর স্বজনদেরও জানা ছিল। এমনকি স্বামীর হাতে হত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কার কথাও স্বজনদের জানিয়েছিলেন পিনু।

মামলার বাদী সারাহ সুলতানা পলি বলেন, ‘পিনু আমাদের ফোন করে কান্নাকাটি করে বলত, সোহেল আমাকে মেরে ফেলবে, ছাড়বে না। আমি খুন হলে তোমরা ওকে ছাড়বে না। ওর শাস্তি চাইবে। শুধু এ কথাই বলত। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে সংসারে পড়ে ছিল।’

সারাহ সুলতানা পলি জানান, এর আগে একবার পিনুকে নির্যাতন করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন সোহেল। ওই ঘটনায় পিনু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

পিনুর বড় বোন পান্না জানান, সোহেলকে তারা আগে থেকেই সন্দেহ করতেন। কারণ পিনু প্রায়ই ফোন করে সোহেলের চরিত্র নিয়ে অভিযোগ করতেন। তার ভাষ্য, সোহেলের আচরণের কারণে বাসার গৃহকর্মীও বেশিদিন থাকতে পারতেন না। পাশের বাসার ভাড়াটিয়ারাও বেশিদিন সেখানে থাকতেন না। বাইরের লোকজনের বাসায় যাতায়াতও তিনি পছন্দ করতেন না।

পান্না আরও বলেন, পিনুর মেয়ের এক বান্ধবীর মাকেও সোহেল প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি পিনুকেও জানানো হয়েছিল।

তার অভিযোগ, সোহেল রানা পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পিনু। এ কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার তাকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। সোমবার (আজ) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, পিনুর স্বজনদের করা অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সোহেলকে রিমান্ডে পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow