পিরোজপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় নারীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এস. এম. মনিরুজ্জামান এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ কবুতর খালি গ্রামের মৃত সুলতান সরদারের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম সরদার (৩৫) ও একই এলাকার মৃত মোসলেম হাওলাদারের মেয়ে মোসা. গোলাপী বেগম (৩০)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা দুজনেই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরে স্কুল ছুটির পর শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার খালা ও প্রতিবেশীরা তাকে স্কুল সংলগ্ন এলাকার পাশে দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, তাকে চানাচুর ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মৎস্য ঘেরের পাহা

পিরোজপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় নারীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী দম্পতির ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এস. এম. মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ কবুতর খালি গ্রামের মৃত সুলতান সরদারের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম সরদার (৩৫) ও একই এলাকার মৃত মোসলেম হাওলাদারের মেয়ে মোসা. গোলাপী বেগম (৩০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা দুজনেই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরে স্কুল ছুটির পর শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার খালা ও প্রতিবেশীরা তাকে স্কুল সংলগ্ন এলাকার পাশে দেখতে পান।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, তাকে চানাচুর ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মৎস্য ঘেরের পাহারা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম সরদার তাকে ধর্ষণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সহযোগী আসামি গোলাপী বেগম একাধিকবার একইভাবে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায় এবং ঘটনার সহায়তা করে।

শিশুটি আরও জানায়, পূর্বেও তাকে একইভাবে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ওই স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট স্থানীয় দফাদার মহানন্দ বালা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১০ বছরের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই রায় দেন।

এ বিষয়ে নারী-শিশু পিপি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সরদার বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের মাধ্যমে আজ আদালত ২ জনের যাবজ্জীবন প্রদান করেছে।

মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow