পিসিওএস রোগীরা যে ধরনের খাবার খাবেন

পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হলো নারীদের এক ধরনের হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা। যার কারণে ওভারিতে ছোট ছোট সিস্ট, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বসহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই পিসিওএস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। জাগো নিউজ: পিসিওএস কীভাবে একজন নারীর দেহে প্রভাব ফেলে এবং কেন খাদ্যাভাস এখানে গুরুত্বপূর্ণ? লিনা আকতার: পিসিওএস একটি মেটাবলিক এবং হরমোনাল ডিসঅর্ডার, যা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারীকে প্রভাবিত করে। ধারণা করা হয় সন্তান ধারণ ও প্রজনন বয়সের ১০জন নারীর মধ্যে একজন নারীর পিসিওএস আছে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি, সন্তান জন্মদানে সমস্যাসহ বিভিন্ন হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়। ফলে নারীদের মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়, ডিম্বাশয় অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করে, উর্বরতার সমস্যা দেখা দেয়, অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি, চুলপড়া ও ডার্ক স্পটিং হয়; সেই সঙ্গে মুড

পিসিওএস রোগীরা যে ধরনের খাবার খাবেন

পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হলো নারীদের এক ধরনের হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা। যার কারণে ওভারিতে ছোট ছোট সিস্ট, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বসহ শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই পিসিওএস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার

জাগো নিউজ: পিসিওএস কীভাবে একজন নারীর দেহে প্রভাব ফেলে এবং কেন খাদ্যাভাস এখানে গুরুত্বপূর্ণ?

লিনা আকতার: পিসিওএস একটি মেটাবলিক এবং হরমোনাল ডিসঅর্ডার, যা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারীকে প্রভাবিত করে। ধারণা করা হয় সন্তান ধারণ ও প্রজনন বয়সের ১০জন নারীর মধ্যে একজন নারীর পিসিওএস আছে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি, সন্তান জন্মদানে সমস্যাসহ বিভিন্ন হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়।

ফলে নারীদের মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়, ডিম্বাশয় অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করে, উর্বরতার সমস্যা দেখা দেয়, অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি, চুলপড়া ও ডার্ক স্পটিং হয়; সেই সঙ্গে মুড সুইং, ডিপ্রেশন, প্রদাহ, গাট হেলথ সমস্যাসহ নানান সমস্যা দেখা দেয়, যা একজন নারীকে শারীরিকের পাশাপাশি মানসিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে। এটা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত হলে পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার, টাইপ-টু ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য নানা মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পিসিওএস এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কমাতে, সেই সঙ্গে রোগটির জটিলতা কমাতে একটি সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস রক্তে শর্করা, ইনসুলিন এবং হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া নারীদের উর্ববতা উন্নত করতে, প্রদাহ কমাতে এবং ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে।

জাগো নিউজ: পিসিওএস রোগীর খাদ্যাভাস কি সাধারণ মানুষের খাদ্যাভাস থেকে আলাদা হওয়া উচিত?

লিনা আকতার: হ্যাঁ, পিসিওএস রোগীর খাদ্যাভাস ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। তবে এটা নির্ধারণ করতে হয় তার পিসিওএসের ধরণ দেখে। কারো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা থাকতে পারে, কারো ওজন বেশি, কারো প্রদাহজনিত সমস্যা, কারো আবার ফার্টিলিটির সমস্যা থাকতে পারে।

জাগো নিউজ: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে পিসিওএস এর সম্পর্ক কী এবং এটি নিয়ন্ত্রণে কোন খাবারগুলো সহায়ক?

লিনা আকতার: পিসিওএস এর সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলো শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করলেও তা ব্যবহার করতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে টাইপ-টু ডায়াবেটিস, মেটাবলিজ কম, ঘুমের মান খারাপ, পুষ্টিশোষণ কম হওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে কম গ্লাইসেমিক সূচক খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

জাগো নিউজ: পিসিওএস রোগীদের কোন ধরনের কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে উপকার পাবেন?

লিনা আকতার: পিসিওএস রোগীদের জটিল বা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বেশি খাবার খেলে উপকার পাবেন। যেমন আস্ত শস্যদানা, বাদামীচাল, লাল চিড়া, যব, ওটস, কিনোয়া ইত্যাদি।

জাগো নিউজ: ফাস্টফুড, চিনি ও প্রতিয়াজাত খাবার কেন পিসিওএস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর?

লিনা আকতার: ফাস্টফুড, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোর বেশিরভাগে ক্যালরি ও চর্বি পরিশোধিত হয় - যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন স্পাইক, হরমোনের পরিবর্তন ও প্রদাহ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এগুলো পিসিওএস রোগীর ডিম্বাশয়ের বিকাশকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

জাগো নিউজ: দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা তৈরি করতে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত?

লিনা আকতার: অবশ্যই লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ খাবার, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, উচ্চ প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সিম্পল কার্বোহাইড্রেট, ভাজাপোড়া খাবার, আনহেলদি খাবার বাদ দিতে হবে।

জাগো নিউজ: পিসিওএস এর কারণে হরমোনের পরিবর্তন হলে খাদ্যাভাস কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

লিনা আকতার: পিসিওএস রোগীদের হরমোন পরিবর্তনের কারণে নানা শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়। কোন ধরনের হরমোনের সমস্যা সেই অনুযায়ী খাদ্যাভাস বা ডায়েট দিতে হবে। তবে সার্বিকভাবে সুষম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গ্রহণ করা উচিত। যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন হরমোন ব্যালেন্স করে। ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি স্ট্রেস কমাতে, ঘুম ঠিক করতে এবং মাইট্রোকন্ড্রিয়াল ফাংশন বাড়াতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

সানজানা রহমান যুথী/এএমপি/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow