প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে টাস্কফোর্স ও বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য চাকরিবিধি দাবি

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নতুন করে সরব হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)।  সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর রমনায় সংগঠনটির সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এতে সভাপতিত্ব করেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্যে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এটিএম তানবীর-উল-হাসান (তমাল) বলেন, দেশের উন্নয়ন, পেশাজীবী সমাজের কার্যক্রম এবং জাতীয় অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরি

প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে টাস্কফোর্স ও বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য চাকরিবিধি দাবি
দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৌশলীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নতুন করে সরব হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)।  সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর রমনায় সংগঠনটির সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এতে সভাপতিত্ব করেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্যে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এটিএম তানবীর-উল-হাসান (তমাল) বলেন, দেশের উন্নয়ন, পেশাজীবী সমাজের কার্যক্রম এবং জাতীয় অগ্রগতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। আইইবির কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা আমরা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের এই সময়ে প্রকৌশলীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কাজের সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্বও গণমাধ্যমের। সভায় আইইবির কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। তিনি দেশের প্রকৌশল খাতের কাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, সরকারি খাতে নিয়োগ সীমিত থাকায় দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রকৌশলী বেসরকারি খাতে কর্মরত। কিন্তু এসব প্রকৌশলীর বড় একটি অংশ তুলনামূলকভাবে কম বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বেসরকারি প্রকৌশলীরাই কাজ করেন। অথচ তাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি নেই। এটি একটি বড় বৈষম্য। এই বাস্তবতায় বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের চাকরিবিধি প্রণয়নের ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু প্রকৌশলীদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়নের জন্যও জরুরি।তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। ড. সাব্বির মোস্তফা খান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই অপ্রযুক্তিগত পটভূমির ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।  তিনি দাবি জানান, প্রকৌশল সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত বা অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতি ও গ্রেড প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইইবির পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।  তিনি আরও বলেন, প্রকৌশল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আইইবির সদস্যপদ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদকালে প্রায় ১২ হাজার নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনটিকে আরও গতিশীল করেছে। মতবিনিময় সভায় আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্টদের মধ্যে প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক), প্রকৌশলী শেখ আল আমিন (এইচআরডি), প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া (এসঅ্যান্ডডব্লিউ), সহকারী সাধারণ সম্পাদক  প্রকৌশলী মো. নূর আমিন (এইচআরডি) এবং প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী (এসঅ্যান্ডডব্লিউ), ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার, ভাইস-চেয়ারম্যান (একাডেমিক ও এইচআরডি) প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভাইস-চেয়ারম্যান (অ্যাডমিন, প্রফেশনাল ও এসডব্লিউ) প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান এবং সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান চুন্নুসহ আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে অংশ নেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম, দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বৈশাখী টেলিভিশনের সিএনই তৌহিদ শান্ত, চ্যানেল ওয়ানের সিওও ফারহানা নিশো, বিটিভির সিএনই মো. কামরুল ইসলাম, জিটিভির সিইও মো. রফিকুল ইসলাম, হেড অব নিউজ গাউছুল আজম বিপু এবং ডিএমডি আবুল হাসান, কালবেলার ডেপুটি চিফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম, বণিক বার্তার আমিনুল ইসলাম, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শিহাবুর রহমান, দৈনিক ইনকিলাবের নুরুল ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শেখ শাহরুখ, দৈনিক মানবজমিনের ঢালী আবু হানিফসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকেরা প্রকৌশল খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, নীতি-সংস্কার এবং গণমাধ্যম-আইইবি সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। আইইবি নেতারা জানান, জাতীয় উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখা হবে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow