প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ডিপার্টমেন্টে এআই নিয়ে ২ দিনের কর্মশালা
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের সামনে আসে। তা হলো, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি আমাদের চাকরি কিংবা ব্যবসার ধরন বদলে দেবে?’ কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, প্রশ্নটি এখন আর তা নয়। বরং আসল প্রশ্নটি হলো, ‘এআইয়ের এই অবধারিত পরিবর্তনের জোয়ারে আমরা কি নেতৃত্ব দেবো, নাকি কেবল দর্শক হয়ে তা দেখব?’ প্রযুক্তির এ অভাবনীয় বিপ্লবের যুগে ব্যবসায়িক খাতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে প্রস্তুত করতে গত ১৮ ও ১৯ জুন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ আয়োজন করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক দুই দিনব্যাপী এক বিশেষায়িত কর্মশালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ এবং এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে ডিজাইন করা এ কর্মশালা দুটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এআইয়ের বাস্তবমুখী প্রয়োগ এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হয় বিবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এআই ফর বিজনেস গ্র্যাজুয়েটস’ শীর্ষক সেশন এবং ১৯ জুন এমবিএর প্রফেশনালদের জন্য আয়োজন করা হয় ‘এআই ফর বিজনেস প্রফেশনালস’ শীর্ষক কর্মশালা। উভয় সেশনেই মূল বক্তা বা রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের সামনে আসে। তা হলো, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি আমাদের চাকরি কিংবা ব্যবসার ধরন বদলে দেবে?’ কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, প্রশ্নটি এখন আর তা নয়। বরং আসল প্রশ্নটি হলো, ‘এআইয়ের এই অবধারিত পরিবর্তনের জোয়ারে আমরা কি নেতৃত্ব দেবো, নাকি কেবল দর্শক হয়ে তা দেখব?’
প্রযুক্তির এ অভাবনীয় বিপ্লবের যুগে ব্যবসায়িক খাতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে প্রস্তুত করতে গত ১৮ ও ১৯ জুন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ আয়োজন করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক দুই দিনব্যাপী এক বিশেষায়িত কর্মশালা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ এবং এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে ডিজাইন করা এ কর্মশালা দুটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এআইয়ের বাস্তবমুখী প্রয়োগ এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা।
গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হয় বিবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এআই ফর বিজনেস গ্র্যাজুয়েটস’ শীর্ষক সেশন এবং ১৯ জুন এমবিএর প্রফেশনালদের জন্য আয়োজন করা হয় ‘এআই ফর বিজনেস প্রফেশনালস’ শীর্ষক কর্মশালা।
উভয় সেশনেই মূল বক্তা বা রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য এআই ট্রেইনার, ‘কাজী কনসালট্যান্টস’র সিনিয়র কনসালট্যান্ট কাজী তাফসিরুল ইসলাম। এআই প্রযুক্তির সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সমন্বয় সাধনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ট্রেইনার অত্যন্ত সাবলীলভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন কীভাবে এআই ইতোমধ্যেই আমাদের চিন্তা, কর্মপদ্ধতি, নেতৃত্ব এবং প্রতিযোগিতার ধরনকে পুনর্গঠন করছে। তিনি দেখান যে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ করপোরেট দুনিয়ায় এআই কোনো দূরবর্তী সম্ভাবনা নয়, বরং আজই আয়ত্ত করার মতো একটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যারা এ প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখবে, তারা শুধু টিকে থাকবে না, বরং তারাই ইন্ডাস্ট্রির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির।
সেশন দুটির সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসেন এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ জুলফিকার আলী।
কর্মশালাগুলোর সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন বিবিএ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ও লেকচারার শিশির দাস এবং এমবিএ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মো. মোবারক করিম।
কর্মশালায় বক্তারা এ বিষয়ের ওপর জোর দেন যে, আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ডেটা অ্যানালিটিকস, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন এবং মার্কেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলোতে চ্যাটজিপিটি, মিডজার্নি কিংবা বিভিন্ন প্রেডিক্টিভ এআই টুলস কীভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে, তা আমাদের পাঠ্যসূচির অংশ হওয়া জরুরি।
গ্র্যাজুয়েট ও কর্মজীবী পেশাজীবীদের উপচে পড়া ভিড় এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে এ ধরনের সময়োপযোগী কর্মশালার গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। হ্যান্ডস-অন লার্নিং বা হাতে-কলমে শেখার এ সেশনটি শেষে মূল বক্তা কাজী তাফসিরুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বক্তরা আরও বলেন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বিজনেস ডিপার্টমেন্টের এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশন বা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন প্র্যাকটিক্যাল নলেজ-শেয়ারিং সেশন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
What's Your Reaction?