প্রয়োজন না থাকলেও শিশুকে দেওয়া হলো ভিন্ন গ্রুপের রক্ত

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়েছে। কর্তব্যরত এক নার্স এক প্রসূতির জন্য রাখা ও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত শিশুর শরীরে পুশ করতে থাকে। ওই শিশুর রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ এবং তার শরীরে অতিরিক্ত রক্তের কোন প্রয়োজন ছিল না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে রোগী আফসানা আক্তার নারায়নগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার নানা বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়। শিশুর মামা আবির আহমেদ জানান, পেটে ব্যাথার কারণে কয়েকদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় আফসানাকে। গতকাল অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে প্রয়োজন না হলেও এবং পরিবারের বাধার পরও আখি নামের এক নার্স আফসানার শরীরে ও পজেটিভ রক্ত প্রয়োগ করে। এর কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেয় নার্স। এ ঘটনার কিছু সময় পরে আফসানা অসুস্থ

প্রয়োজন না থাকলেও শিশুকে দেওয়া হলো ভিন্ন গ্রুপের রক্ত

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আফসানা আক্তার (১৪) নামের এক শিশুর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়েছে। কর্তব্যরত এক নার্স এক প্রসূতির জন্য রাখা ও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত শিশুর শরীরে পুশ করতে থাকে। ওই শিশুর রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ এবং তার শরীরে অতিরিক্ত রক্তের কোন প্রয়োজন ছিল না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে রোগী আফসানা আক্তার নারায়নগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল নামের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার নানা বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের কম্পপুর এলাকায়।

শিশুর মামা আবির আহমেদ জানান, পেটে ব্যাথার কারণে কয়েকদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় আফসানাকে। গতকাল অপারেশনের পর আফসানাকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। পরে বিকেলে প্রয়োজন না হলেও এবং পরিবারের বাধার পরও আখি নামের এক নার্স আফসানার শরীরে ও পজেটিভ রক্ত প্রয়োগ করে। এর কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেয় নার্স।

এ ঘটনার কিছু সময় পরে আফসানা অসুস্থ বোধ করে, তার বমিবমি ভাব হয়। খিঁচুনি শুরু হতে থাকে। এ ঘটনা জানাজানি হলে চিকিৎসকরা এসে তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন। বর্তমানে সে কিছুটা সুস্থ রয়েছে।

এ ঘটনায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আবির।

ভুক্তভোগীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, আমার মেয়ে আফসানার কোন রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্তের কোনো কথাও বলেনি চিকিৎসক। হঠাৎ করেই নার্স রক্ত নিয়ে এসে শরীরে দেওয়া শুরু করেন। ডাক্তার রক্তের কথা বলে নাই, এমন কথা বললে ওই নার্স খারাপ আচারণ করে বলেন আমার চেয়ে বেশি বুঝেন? আমার চেয়ে বেশি বুঝবেন না। এই বলে আমার মেয়ের শরীরে রক্ত দেওয়া শুরু করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম ইফতেখার বলেন, পোস্ট অপারেটিভ রুমে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারণে ভুলে ‘ও’ পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরেই আমরা রক্ত দেওয়া বন্ধ করে চিকিৎসা দিয়েছি। এখন রোগীর অবস্থা ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, নার্সের গাফিলতির কারণে ওই রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোশাহিদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ওই নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow