‘প্লাস্টিক নিজে দূষণ করে না, দূষণ করে আমাদের অব্যবস্থাপনা’
প্লাস্টিক বর্জ্য মানেই পরিবেশের অভিশাপ নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি হতে পারে দেশের অর্থনীতির এক নতুন আশীর্বাদ। যেটি করে দেখিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ আরএফএল। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার প্লাস্টিক অর্থনীতি। বছরে প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেল করে প্রাণআরএফএল গ্রুপ সাশ্রয় করছে দেশের প্রায় ৪শ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। পরিবেশে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের প্রভাব, দূষণ কমিয়ে আনা, প্লাস্টিক বর্জ্য অব্যবস্থাপনাসহ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং নিয়ে কথা বলেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের টেল প্লাস্টিকসের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান আহমদ। জাগো নিউজ: বিশ্বে এবং বাংলাদেশে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের চিত্র কেমন। কম ব্যবহার সত্ত্বেও আমাদের দেশে দূষণ কেন বেশি দৃশ্যমান? কামরুল হাসান: পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ১০০ কেজির বেশি। ভারতে এটি প্রায় ১৫ কেজি। অথচ বাংলাদেশে আমাদের মাথাপিছু ব্যবহার মাত্র ৮ থেকে ১০ কেজি। আমাদের ব্
প্লাস্টিক বর্জ্য মানেই পরিবেশের অভিশাপ নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি হতে পারে দেশের অর্থনীতির এক নতুন আশীর্বাদ। যেটি করে দেখিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ আরএফএল। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার প্লাস্টিক অর্থনীতি।
বছরে প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেল করে প্রাণআরএফএল গ্রুপ সাশ্রয় করছে দেশের প্রায় ৪শ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। পরিবেশে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের প্রভাব, দূষণ কমিয়ে আনা, প্লাস্টিক বর্জ্য অব্যবস্থাপনাসহ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং নিয়ে কথা বলেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের টেল প্লাস্টিকসের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান আহমদ।
জাগো নিউজ: বিশ্বে এবং বাংলাদেশে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহারের চিত্র কেমন। কম ব্যবহার সত্ত্বেও আমাদের দেশে দূষণ কেন বেশি দৃশ্যমান?
কামরুল হাসান: পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ১০০ কেজির বেশি। ভারতে এটি প্রায় ১৫ কেজি। অথচ বাংলাদেশে আমাদের মাথাপিছু ব্যবহার মাত্র ৮ থেকে ১০ কেজি। আমাদের ব্যবহার কম থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে দূষণ বেশি হচ্ছে।
আমরা ব্যবহারের পর প্লাস্টিক নির্দিষ্ট বিনে রাখছি না, গৃহস্থালির অন্য বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক আলাদা করছি না। আমরা প্লাস্টিকপণ্য ব্যবহারের পর যত্রতত্র ছুড়ে ফেলছি, যার কারণে দৃশ্যমান দূষণ বাড়ছে।
জাগো নিউজ: বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উৎপাদনে কত শতাংশ রিসাইকেলড প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে?
কামরুল হাসান: আমাদের টোটাল প্লাস্টিক কনজাম্পশনের ১৫ শতাংশ আমরা রিসাইকেলড প্লাস্টিক দিয়ে রিপ্লেস করছি। অর্থাৎ ভার্জিন প্লাস্টিকের ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমিয়েছি। ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ রিসাইকেলড প্লাস্টিক ইনটেক করা (ব্যবহার বা অন্তর্ভুক্ত করা)।
আমরা বার্ষিক ৬৯ হাজার মেট্রিক টন (রাউন্ড ফিগারে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন) প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি। এই পরিমাণ কাঁচামাল যদি আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, তবে ৪শ কোটি টাকা লাগতো। তার মানে আমরা দেশের ৪শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছি
এছাড়া বর্তমানে আমাদের ১২টি কালেকশন সেন্টার আছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণ ও রুট লেভেল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে ১০০টিতে উন্নীত করার টার্গেট রয়েছে।
জাগো নিউজ: রিসাইক্লিং উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি বা বৈদেশিক মুদ্রায় আপনারা কী অবদান রাখছেন?
কামরুল হাসান: গত বছরের অডিটেড ডাটা অনুযায়ী, আমরা বার্ষিক ৬৯ হাজার মেট্রিক টন (রাউন্ড ফিগারে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন) প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি। এই পরিমাণ কাঁচামাল যদি আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, তবে ৪শ কোটি টাকা লাগতো। তার মানে আমরা দেশের ৪শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছি।
প্লাস্টিকের বিউটি হলো একে একাধিকবার রিসাইকেল করা যায়। আমাদের প্ল্যান্টে এমন প্লাস্টিকও আছে, যা ২০ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত রিসাইকেল হয়েছে।
জাগো নিউজ: এই প্লাস্টিক রিসাইক্লিং পরিবেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কতটা ভূমিকা রাখছে? আপনারা কি কার্বন ক্রেডিট ক্লেম করছেন?
কামরুল হাসান: এক কেজি ভার্জিন প্লাস্টিক তৈরিতে ১ দশমিক ০৮ কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয় এবং ১ কেজি ক্রুড অয়েল লাগে। সেই হিসাবে আমাদের ৬৯ হাজার মেট্রিক টন রিসাইক্লিংয়ের কারণে বছরে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমছে।
এই রিসাইক্লিং ও কালেকশন প্রসেসের সঙ্গে সরাসরি আমাদের পে-রোলে ১২শ কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে একটি বড় সামাজিক প্রভাব হলো এখানে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মীই নারী
আমরা ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ (যা কার্বন ক্রেডিটেরই বিকল্প) পাওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় আবেদন করেছি। আমাদের ট্রেসিবিলিটি (বর্জ্য কোথা থেকে আসছে এবং কোথায় যাচ্ছে তার প্রমাণ) শতভাগ থাকায় এ বছরের শেষ নাগাদ আমরা এই ক্রেডিট পেয়ে যাবো বলে আশা করছি।
জাগো নিউজ: পুরো প্রসেসে আপনাদের কারখানায় কর্মসংস্থান ও সামাজিক ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রভাব তৈরি হচ্ছে?
কামরুল হাসান: রিসাইক্লিং ও কালেকশন প্রসেসের সঙ্গে সরাসরি আমাদের পে-রোলে ১২শ কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে একটি বড় সামাজিক প্রভাব হলো এখানে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মীই নারী। আমরা টেকনিশিয়ান ও অপারেটর বাদে সর্টিং এবং অন্য কাজে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ইনক্লুডিং সুপারভাইজার এই প্ল্যান্টটি একসময় শতভাগ নারী কর্মী দ্বারা পরিচালনা করা, যা লিঙ্গসমতায় বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন
- ফেলে দেওয়া প্লাস্টিককে সম্পদে রূপ দিচ্ছে প্রাণ-আরএফএল
- প্লাস্টিকপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আরএফএল-এর ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ
- উৎপাদন সক্ষমতায় বিশ্বের বড় ১০ প্লাস্টিক কোম্পানির একটি আরএফএল
কারখানার কর্মীদের জন্য অ্যালাউন্স, পুষ্টিকর খাবার (কলা, ডিম) এবং ফ্রি মেডিকেল চেকআপ ও হসপিটাল সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়া এই রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় আমরা সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তুলছি।
জাগো নিউজ: আপনি ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার অর্থনীতির কথা বলছেন। এটা দেশের অর্থনীতিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
কামরুল হাসান: রিসাইক্লিং অনেকেই বিচ্ছিন্নভাবে করে। কিন্তু ‘সার্কুলার ইকোনমি’ হলো একটি ক্লোজড লুপ বা চক্রাকার প্রক্রিয়া। আমরা উৎপাদক হিসেবে প্লাস্টিকপণ্য বাজারে দিচ্ছি, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার হয়ে তা কাস্টমারের কাছে যাচ্ছে। কাস্টমার ব্যবহারের পর তা আমাদের কালেকশন চ্যানেল বা বাইব্যাক (Buyback) সিস্টেমের মাধ্যমে আবার আমাদের কালেকশন সেন্টারে ফেরত আসছে। আমরা সেটা প্রসেস করে নতুন পণ্য বানিয়ে আবার বাজারে ছাড়ছি।
মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য আমরা প্রায় ১০০টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন করছি। এর মধ্যে আছে ডাস্টবিন, ফ্লাওয়ার পট, গার্ডেনিং আইটেম, পোল্ট্রি প্রোডাক্ট ও বাস্কেট। তবে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হিউম্যান রাইটস বিবেচনায় আমরা ফুড-গ্রেড বা খাবারের প্লেট/বোতলে এই রিসাইকেলড প্লাস্টিক ব্যবহার করি না, এগুলো মূলত নন-ফুড গ্রেড পণ্যে ব্যবহৃত হয়
উৎপাদন, সরবরাহ, সংগ্রহ এবং আবার রি-ডিজাইন করে নতুন লাইফ দেওয়া- পুরো চেইনটি বাংলাদেশে একমাত্র আমরাই করছি। দেশি-বিদেশি পরিদর্শকরা বলেন, পৃথিবীতে খুব কম কোম্পানি আছে যারা এই পুরো সার্কুলার ইকোনমি এক ছাদের নিচে করে।
জাগো নিউজ: রিসাইকেলড প্লাস্টিক দিয়ে আপনারা কী কী পণ্য তৈরি করছেন? এগুলো কি খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা সম্ভব?
কামরুল হাসান: মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য আমরা প্রায় ১০০টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদন করছি। এর মধ্যে আছে ডাস্টবিন, ফ্লাওয়ার পট, গার্ডেনিং আইটেম, পোল্ট্রি প্রোডাক্ট ও বাস্কেট। তবে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হিউম্যান রাইটস বিবেচনায় আমরা ফুড-গ্রেড বা খাবারের প্লেট/বোতলে এই রিসাইকেলড প্লাস্টিক ব্যবহার করি না, এগুলো মূলত নন-ফুড গ্রেড পণ্যে ব্যবহৃত হয়। তবে ভবিষ্যতে পিইটি (PET) বোতল থেকে আবার ফুড-গ্রেড বোতল ও সিনথেটিক ফাইবার বা পলিস্টার সুতা (যা দিয়ে স্পোর্টস জার্সি তৈরি হয়) তৈরির বড় ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট নিয়ে আমরা কাজ করছি।
জাগো নিউজ: প্লাস্টিক সংগ্রহ বাড়াতে কনজ্যুমার বা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আপনাদের কোন ধরনের উদ্যোগ বা ক্যাম্পেইন রয়েছে?
কামরুল হাসান: বড় পণ্যের ক্ষেত্রে (যেমন চেয়ার, টেবিল) আমাদের ‘বাইব্যাক সিস্টেম’ আছে। ডিলার বা রিটেইলাররা কাস্টমার থেকে পুরোনো জিনিস কিনে আমাদের দিলে আমরা তাদের আর্থিক বেনিফিট দেই, যাতে তারা উৎসাহিত হয়।
এছাড়া রিটেইল চেইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জায়গায় ১ কেজি প্লাস্টিক দিলে টাকা বা পণ্য দেওয়ার সিস্টেম চালু করেছি। তবে আমাদের দেশে স্ট্যাটাস বা লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে পুরোনো প্লাস্টিক দোকানে নিয়ে আসতে চান না। এছাড়া আমরা প্রতি বছর জুন মাসে সারা দেশে আমাদের প্রায় একলাখ স্টাফ নিয়ে ‘লেটস সেভ দ্য প্ল্যানেট’ ক্যাম্পেইন করি এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট কার্নিভাল’র মাধ্যমে তরুণদের সচেতন করছি।
জাগো নিউজ: পরিবেশ সুরক্ষায় আপনারা কারখানার ভেতরে ইটিপি বা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন?
কামরুল হাসান: যেহেতু রিসাইক্লিং প্রসেসে প্রচুর পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয় সেহেতু আমাদের প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কেই ইটিপি এবং জিরো ডিসচার্জ প্ল্যান্ট রয়েছে। এখন আমরা ‘জিরো ডিসচার্জ’ পলিসি অনুসরণ করি। জিরো ডিসচার্জ প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমরা ওয়াটার রিসাইক্লিং করি এবং সেই রিসাইকেলড পানি কারখানায় পুনর্ব্যবহার করি।
প্লাস্টিক বর্জ্য খুব পলিউটেড বা নোংরা অবস্থায় আসায় তা ধুতে প্রচুর পানি, বিদ্যুৎ, কেমিক্যাল ও হাইটেক ওয়াশিং মেশিন লাগে। দিনশেষে এই রিসাইকেলড পণ্য আমাদের কম দামে বিক্রি করতে হয়। কারণ কাস্টমাররা ভাবেন এগুলো স্ক্র্যাপ সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে আনা সস্তা জিনিস
এমনকি আমাদের ইটিপির পানি কতটা নিরাপদ তা প্রমাণ করতে আমরা পুকুরে সেই পানি দিয়ে মাছ চাষ করছি, যার পিএইচ লেভেল শতভাগ পারফেক্ট। এছাড়া আমরা রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং (বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ) এবং সোলার প্যানেল ব্যবহার শুরু করেছি।
জাগো নিউজ: এত বড় একটি পরিবেশবান্ধব কাজ করার পরও ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাদের মূল চ্যালেঞ্জ বা সরকারের কাছে দাবিগুলো কী কী?
কামরুল হাসান: আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রসেসিং কস্ট অনেক বেশি। প্লাস্টিক বর্জ্য খুব পলিউটেড বা নোংরা অবস্থায় আসায় তা ধুতে প্রচুর পানি, বিদ্যুৎ, কেমিক্যাল ও হাইটেক ওয়াশিং মেশিন লাগে। দিনশেষে এই রিসাইকেলড পণ্য আমাদের কম দামে বিক্রি করতে হয়। কারণ কাস্টমাররা ভাবেন এগুলো স্ক্র্যাপ সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে আনা সস্তা জিনিস।
উন্নত বিশ্বে রিসাইকেল পণ্যের দাম বেশি হলেও আমাদের দেশে উল্টো। অথচ এই পরিবেশবান্ধব রিসাইকেলড ফিনিশড গুডসের ওপর সরকার এখনো ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরে রেখেছে। আমাদের দাবি, পলিসি মেকাররা যেন এই ভ্যাট প্রত্যাহার করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা রিসাইক্লিং ব্যবসায় উৎসাহিত হয়ে পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখে।
আরএ/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?