ফক্সক্রফটের গল্প: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২৮ মাস বন্দি জীবন

জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির হয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুর্ধ্ব’১৯ বিশ্বকাপও খেলেছেন। এরপর চিন্তা করলেন, অন্য ঠিকানায় যাবেন। বেছে নিলেন নিউজিল্যান্ড। ৭ বছর পর সেই বাংলাদেশের মাটিতেই কিউইদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর মাঝে আবার জন্মভূমিতে ফিরে আটকে ছিলেন দুই বছরের বেশি সময়। এক সময় তো মনে হচ্ছিল আর কখনো নিউজিল্যান্ডে ফিরতেই পারবেন না। তবে ফিরেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। বলছি নিউজিল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী ডিন ফক্সক্রফটের কথা। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ হারলেও ব্যাট হাতে উজ্ব্বল ছিলেন তিনি। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়া, এরপর ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তারই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য… জাগো নিউজ: দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম, এরপর নিউজিল্যান্ডে যাওয়া, সেখানেই থিতু হওয়া। এর পিছনের চিন্তাটা কি ছিল? ডিন ফক্সক্রফট: তখন অনেক কিছুই চলছিল। আমি আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে পৃথিবীর অন্য জায়গা দেখতে চেয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেট খেলার একটা সুযোগ পেয়েছিলাম, তাই সেখানে গিয়ে ক্লাব ক্রিকেট খেল

ফক্সক্রফটের গল্প: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২৮ মাস বন্দি জীবন

জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির হয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুর্ধ্ব’১৯ বিশ্বকাপও খেলেছেন। এরপর চিন্তা করলেন, অন্য ঠিকানায় যাবেন। বেছে নিলেন নিউজিল্যান্ড। ৭ বছর পর সেই বাংলাদেশের মাটিতেই কিউইদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর মাঝে আবার জন্মভূমিতে ফিরে আটকে ছিলেন দুই বছরের বেশি সময়। এক সময় তো মনে হচ্ছিল আর কখনো নিউজিল্যান্ডে ফিরতেই পারবেন না। তবে ফিরেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। বলছি নিউজিল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী ডিন ফক্সক্রফটের কথা। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ হারলেও ব্যাট হাতে উজ্ব্বল ছিলেন তিনি। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ড যাওয়া, এরপর ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তারই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য…

জাগো নিউজ: দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম, এরপর নিউজিল্যান্ডে যাওয়া, সেখানেই থিতু হওয়া। এর পিছনের চিন্তাটা কি ছিল?

ডিন ফক্সক্রফট: তখন অনেক কিছুই চলছিল। আমি আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে পৃথিবীর অন্য জায়গা দেখতে চেয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেট খেলার একটা সুযোগ পেয়েছিলাম, তাই সেখানে গিয়ে ক্লাব ক্রিকেট খেলব এবং দেশটা কেমন সেটা দেখব, এই ভাবনাতেই যাই। প্রথম দিন থেকেই দেশটা আমার খুব ভালো লাগে। এরপর মনে হলো এখানেই থেকে চেষ্টা করা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় খারাপ কিছু ঘটছিল এমন নয়, তবে নতুন সুযোগ দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে আসার সিদ্ধান্তটা সফলই হয়েছে। দেশটা সুন্দর, মানুষ ভালো, সংস্কৃতিও দারুণ, এখন এটাকেই নিজের ঘর বলতে পারি।

জাগো নিউজ: কোভিডের সময় আপনি প্রায় দুই বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় আটকে ছিলেন। সেই সময়টা কীভাবে কাটিয়েছেন?

ডিন ফক্সক্রফট: সময়টা কঠিন ছিল। পরিবারকে দেখতে গিয়ে প্রায় ২৮ মাস দক্ষিণ আফ্রিকায় আটকে ছিলাম। তখন লকডাউন চলছিল। তবে জানতাম একসময় পরিস্থিতি ঠিক হবে। তাই নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেছি, জিম করেছি এবং পরিচিত কোচদের সঙ্গে অনুশীলন চালিয়ে গেছি। যখন জানতে পারলাম নিউজিল্যান্ডে ফিরতে পারব, তখন মনে হয়েছিল আবার নতুন করে শুরু করতে পারব।

জাগো নিউজ: এতদিন বাইরে থাকার সময় কি কখনো মনে হয়েছিল ক্রিকেট ছেড়ে দেবেন?

ডিন ফক্সক্রফট: প্রথম বছর পর একসময় মনে হয়েছিল ব্ল্যাকক্যাপসের হয়ে খেলার স্বপ্নটা হয়তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল আর হয়তো নিউজিল্যান্ডে ফিরতে পারব না। তবে তখনো বয়স কম ছিল, তাই আশা ছাড়িনি।

জাগো নিউজ: কোভিডের পরের মৌসুমে আপনি সর্বোচ্চ রান করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে ‘ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ ও ‘সুপার স্ম্যাশ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও জিতেছেন। তখন কি মনে হয়েছিল হারানো সময়ের ক্ষতিপূরণ করতে হবে?

ডিন ফক্সক্রফট: অবশ্যই। গতকালও আমি ম্যাচটা জেতানোর চেষ্টা করছিলাম। তখন হাতে এক উইকেট ছিল, তাই ওভার ও সময় ব্যবহার করতে হচ্ছিল হিসাব করে। রানা ও ফিরোজের বিপক্ষে ম্যাচআপ মাথায় রাখতে হচ্ছিল। আমি চেষ্টা করছিলাম যেন টেইলএন্ডাররা কম বল খেলে।

জাগো নিউজ: সিরিজটা নিউজিল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে হারলেও ব্যক্তিগতভাবে আপনার জন্য ভালো গেছে। তিন ম্যাচে ১৪৯ রান করেছেন, যা নিউজিল্যান্ডের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। অনুভূতিটা কেমন?

ডিন ফক্সক্রফট: সিরিজ হারলে স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগে না। আমাদের জেতার সুযোগ ছিল। টম ল্যাথামও বলেছিলেন, আমরা আসলে কয়েকটা পার্টনারশিপ দূরে ছিলাম ম্যাচটা জেতা থেকে। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য আমি পারফরম্যান্সে খুশি। কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছি, আগের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে দিয়েছে। শেষ সফরের শেখাগুলোও সহায়ক ছিল। নিজের অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে, যদিও সিরিজটা হারায় খারাপ লাগছে।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশে আগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে বলছিলেন… ২০১৫ সালে সিরিজ খেলতে, ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালে অভিষেক সবই বাংলাদেশ। ৩ বছর পর আবার এলেন, এবার কেমন লাগছে বাংলাদেশ?

ডিন ফক্সক্রফট: বাংলাদেশে প্রতিবার আসাই আলাদা অভিজ্ঞতা। ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে এখন প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে, ভাবলে অবাক লাগে। ২০২৩ সালে অভিষেক ম্যাচে প্রথম বলেই আউট হয়েছিলাম। ক্রিকেট এমনই উত্থান-পতন থাকে। গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের উইকেটও আলাদা। তাই সব জায়গায় গিয়ে শেখার চেষ্টা করি। আগের সফরগুলোর অভিজ্ঞতা আমাকে সাহায্য করেছে।

জাগো নিউজ: আপনাকে শক্তিশালী হিটার বলা হয়। গত ম্যাচে সেটার প্রমাণও দিয়েছেন। নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

ডিন ফক্সক্রফট: আমি শারীরিকভাবে বড় গড়নের, তাই শক্তিটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিউজিল্যান্ডে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে সাধারণত টপ অর্ডারে ব্যাট করি। এখানে ছয় নম্বরে খেলাটা একটু আলাদা অভিজ্ঞতা। তবে হেড কোচ রব ওয়াল্টারের সঙ্গে কথা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন আমার ভূমিকা হবে ছয় নম্বরে ব্যাট করা। তাই আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। দল ৮০/৪ হোক বা ২০০/৪ — মূল বিষয় হলো ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

জাগো নিউজ: প্রথম ওয়ানডেতে রানা একটি ইয়র্কারে আপনাকে বোল্ড করেছিলেন। রিপ্লেতে দেখা গেছে আপনি মাথা নেড়ে সেটার প্রশংসা করছিলেন। বলটা কি এতটাই ভালো ছিল?

ডিন ফক্সক্রফট: হ্যাঁ, বলটা সত্যিই দারুণ ছিল। সে এখনো তরুণ, কিন্তু খুব দ্রুতগতিতে বোলিং করে এবং ভয় পায় না। ওই গতিতে ইয়র্কার করা সত্যিই অসাধারণ। পুরো সিরিজেই সে ভালো বোলিং করেছে।

জাগো নিউজ: ২০২৩ সালে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন, জাতীয় দলে জায়গাও পেয়েছিলেন। তারপর আবার দূরে সরে গেলেন, মাঝের সময়ে কি করেছেন?

ডিন ফক্সক্রফট: ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকেই। কিছু সময় আমার টেকনিক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছিল। অনেক কোচের সঙ্গে কথা বলেছি, নিজের খেলায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। গত এক বছরে সেটা ভালোভাবে কাজ করেছে।

জাগো নিউজ: আগে বাংলাদেশকে স্পিন নির্ভর দল বলা হতো। এখন অনেক পেসার উঠে এসেছে, এটা কি আপনাদের জন্য বিস্ময় ছিল?

ডিন ফক্সক্রফট: না, আমরা জানতাম বাংলাদেশের পেসাররা অনেক উন্নতি করেছে। তাসকিন, রানা, মুস্তাফিজ, শরিফুল। সবাই মানসম্পন্ন বোলার। পাওয়ারপ্লেতেও তারা খুব ভালো বোলিং করেছে।

জাগো নিউজ: টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে। ওয়ানডে সিরিজ হারের পর দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায়?

ডিন ফক্সক্রফট: নতুন কিছু মুখ যুক্ত হয়েছে দলে। আমাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে শক্তভাবে শুরু করতে চাই।

এসকেডি/আইএন/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow