ফরিদপুরে সৎ মাকে হত্যা করে কারাগারে, জামিনে এসে নিজের মাকে হত্যা 

ফরিদপুর শহরে নেশার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ এলাকার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামেলা আক্তার (৬০) ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, শামেলা আক্তারকে তার ছেলে রাহিম শেখ (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাহিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটত। তাদের আরও দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে রাহিম তার সৎ মাকেও হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় কয়েক বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখ বলেন, নেশার টাকার জন্য রাহিম প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। বৃহস্পতিবারও টাকা না পেয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তাদের ধারণা। এলাকার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ তনু বলেন, “এটি অ

ফরিদপুরে সৎ মাকে হত্যা করে কারাগারে, জামিনে এসে নিজের মাকে হত্যা 

ফরিদপুর শহরে নেশার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ এলাকার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামেলা আক্তার (৬০) ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শামেলা আক্তারকে তার ছেলে রাহিম শেখ (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাহিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটত। তাদের আরও দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে রাহিম তার সৎ মাকেও হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় কয়েক বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখ বলেন, নেশার টাকার জন্য রাহিম প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। বৃহস্পতিবারও টাকা না পেয়ে তিনি মায়ের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তাদের ধারণা।

এলাকার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ তনু বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। একজন সন্তানের হাতে মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

কোতোয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শুকান্ত দত্ত জানান, ছেলে কর্তৃক মাকে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তকে মাদকাসক্ত বলে দাবি করেছেন। অভিযুক্তের কক্ষ থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow