ফিতরা কাকে দেওয়া যায়, কাকে দেওয়া যায় না?

সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়। কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে

ফিতরা কাকে দেওয়া যায়, কাকে দেওয়া যায় না?
সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়। কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি; তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯) সদকাতুল ফিতর আদায়ের কথা সামনে আসলেই যে প্রশ্নটি মনে ঘুরপাক খায় সেটি হলো, কাকে ফিতরা দেওয়া যায় আর কাকে দেওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে শরিয়তের ভাষ্য হলো, জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতরও দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮ ) চলুন তাহলে জেনে নিই, কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না- আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে জাকাত বণ্টনের জন্য ৮টি খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এই ৮ শ্রেণির লোক ছাড়া অন্য কাউকে জাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ইরশাদ হয়েছে,‘জাকাত তো কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন (নওমুসলিম), দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (জিহাদে বা দ্বীনি ইলম অর্জনে) এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা আত-তাওবা : ৬০) উল্লিখিত ৮ শ্রেণিগুলো হলো ১. ফকির : যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু তা নেসাব (সাড়ে ৫২ তোলা রুপার মূল্য) পরিমাণ নয়। ২. মিসকিন : যার কাছে কিছুই নেই, অত্যন্ত নিঃস্ব। ৩. আমিল : আমিল হলো সেই ব্যক্তি যাকে ইসলামি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত ও উশর আদায়ের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তাকেও জাকাত দেওয়া যেতে পারে (তবে বর্তমানে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রচলন নেই)। ৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব : এরা হলো সেই সব লোক যাদের অন্তর জয় করার জন্য (ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে) জাকাত দেওয়া হতো। কিন্তু ইসলামের প্রসারের পর এর প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট নেই। ৫. দাসমুক্তি : বর্তমানে এই প্রথা নেই। ৬. ঋণগ্রস্ত : যার ওপর ঋণের বোঝা আছে এবং ঋণ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। ৭. আল্লাহর পথে : দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তি বা দ্বীনি শিক্ষারত গরিব শিক্ষার্থী। ৮. মুসাফির : মুসাফিরের কাছে যদি সফরের অবস্থায় টাকা শেষ হয়ে যায়, তবে তাকেও জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে; যদিও তার নিজ দেশে সম্পদ বিদ্যমান থাকে। এছাড়া দ্বীনি ইলম অর্জনকারী ছাত্রকেও জাকাত দেওয়া যাবে, কারণ এটিও আল্লাহর পথের অন্তর্ভুক্ত। যাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে না জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু ধর্মীয় ও রক্তগত বিধি-নিষেধ রয়েছে। নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের জাকাত দেওয়া বৈধ নয়- ১. জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক : যার কাছে জাকাত ফরজ হওয়ার মতো সম্পদ আছে, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না। ২. নিজের বাবা-মা ও ঊর্ধ্বতন বংশধর : বাবা, মা, দাদা, দাদি, নানা, নানিকে জাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ তাদের ভরণপোষণ করা সন্তানের ওপর ওয়াজিব। ৩. নিজের সন্তান ও নিম্নতর বংশধর : ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি—তাদেরকে জাকাত দেওয়া যাবে না। ৪. স্ত্রীকে : স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে না। ৫. সৈয়দ বংশ বা রাসূল (সা.)-এর পরিবার : বনু হাশেম বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধরদের জন্য জাকাত গ্রহণ করা হারাম। ৬. অমুসলিম : অমুসলিমদের জাকাত দেওয়া যাবে না। তবে সাধারণ দান বা সহায়তা করা যাবে।  ৭. মসজিদ-মাদ্রাসা বা অবকাঠামো নির্মাণে : জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামি মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০, রদ্দুল মুহতার-জাকাত অধ্যায় : ২/৩৩৯-৩৪৪)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow