ফিফার পেজে আসিফ ইকবালের গান, ছবিতে ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা। সেই উৎসবের অন্যতম বড় অংশ বাংলাদেশও। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল না থাকলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল কিংবা জার্মানিকে ঘিরে এ দেশের সমর্থকদের আবেগ বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছে। এবার সেই আবেগের সঙ্গে যুক্ত হলো বাংলা ভাষার আরেকটি গর্বের মুহূর্ত। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনুপ্রেরণামূলক গান ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে’-এর লাইন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক পোস্টে ব্রাজিলের জয়ের পর দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনকে তুলে ধরতে ফিফা বাংলা ভাষাতেই লিখেছে- ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে।’ কোনো অনুবাদ নয়, মূল বাংলা ভাষাতেই ব্যবহার করা হয়েছে বহুল পরিচিত এই গানের লাইন। গানটির গীতিকার আসিফ ইকবাল। এটি প্রথম জনপ্রিয়তা পায় ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার থিম সং হিসেবে। নকীব খান-এর সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের

ফিফার পেজে আসিফ ইকবালের গান, ছবিতে ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা। সেই উৎসবের অন্যতম বড় অংশ বাংলাদেশও। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল না থাকলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল কিংবা জার্মানিকে ঘিরে এ দেশের সমর্থকদের আবেগ বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়েছে।

এবার সেই আবেগের সঙ্গে যুক্ত হলো বাংলা ভাষার আরেকটি গর্বের মুহূর্ত।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনুপ্রেরণামূলক গান ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে’-এর লাইন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক পোস্টে ব্রাজিলের জয়ের পর দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনকে তুলে ধরতে ফিফা বাংলা ভাষাতেই লিখেছে- ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে।’ কোনো অনুবাদ নয়, মূল বাংলা ভাষাতেই ব্যবহার করা হয়েছে বহুল পরিচিত এই গানের লাইন।

গানটির গীতিকার আসিফ ইকবাল। এটি প্রথম জনপ্রিয়তা পায় ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার থিম সং হিসেবে। নকীব খান-এর সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম অনুপ্রেরণার গানে পরিণত হয়েছে।

নিজের লেখা গান বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে জায়গা পাওয়ায় আবেগাপ্লুত আসিফ ইকবাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘গানটা লিখেছিলাম শিল্পীদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য। পরে এটি হয়ে উঠল বাংলাদেশের মানুষের গান। কখনও ভাবিনি, একদিন এই লাইন ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল পেজে জায়গা করে নেবে।’

তিনি আরও জানান, এই একটি লাইন ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদেও উদ্ধৃত হয়েছে, নানা অনুপ্রেরণামূলক আয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে, এমনকি পরে এটি তাঁর বইয়ের নামও হয়েছে।

ফিফার পোস্টে নিজের সৃষ্টিকে দেখে তিনি লেখেন, ‘একটা লাইন- গান থেকে সংসদে, সংসদ থেকে বইয়ের নামে, বই থেকে ফিফার পেজে। প্রতিটি ধাপই ছিল অবিশ্বাস্য। আবেগের ভাষার কোনো অনুবাদ লাগে না। হৃদয় থেকে লেখা কথা একদিন না একদিন মানুষের কাছে পৌঁছায়ই।’

সবশেষে এই অর্জনকে ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের অর্জন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসিফ ইকবাল লেখেন, ‘এটা আমার অর্জন নয়, বাংলাদেশের অর্জন। বাংলা ভাষার অর্জন। চট্টগ্রামের এক ছেলে একদিন একটি লাইন লিখেছিল, আর আজ সেই লাইন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে পৌঁছে গেছে। ছোট দেশের ছোট মানুষের স্বপ্নও একদিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে- শুধু লক্ষ্য থাকতে হয় অটুট।’

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow