ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ : সাপোর্টারনামা

ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এর বাইরে তুলনামূলক কম সংখ্যক সমর্থক ছিল জার্মানি ও ইতালির। বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি, ছাদ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই লাতিন আমেরিকান পরাশক্তির আধিপত্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ত। ২০১০ সালে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ইউরোপীয় দলের প্রতি আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। যদিও নতুন সমর্থকদের একটি বড় অংশ এসেছে ব্রাজিল শিবির থেকেই, তবুও ইউরোপীয় ফুটবলের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির কারণে আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যা কখনো কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন প্রজন্মের অনেক ফুটবলপ্রেমীও এখন আর্জেন্টিনাকে নিজেদের প্রিয় দল হিসেবে বেছে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হলো পর্তুগালের সমর্থক বৃদ্ধি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক এখন পর্তুগালের পক্ষে। এর পেছনে প্রধান কারণ নিঃসন্দেহে ক্রিশ্চিয়ানো

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ : সাপোর্টারনামা

ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এর বাইরে তুলনামূলক কম সংখ্যক সমর্থক ছিল জার্মানি ও ইতালির। বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি, ছাদ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই লাতিন আমেরিকান পরাশক্তির আধিপত্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ত।

২০১০ সালে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ইউরোপীয় দলের প্রতি আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। যদিও নতুন সমর্থকদের একটি বড় অংশ এসেছে ব্রাজিল শিবির থেকেই, তবুও ইউরোপীয় ফুটবলের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

অন্যদিকে, লিওনেল মেসির কারণে আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যা কখনো কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন প্রজন্মের অনেক ফুটবলপ্রেমীও এখন আর্জেন্টিনাকে নিজেদের প্রিয় দল হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হলো পর্তুগালের সমর্থক বৃদ্ধি। শিশু-কিশোরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক এখন পর্তুগালের পক্ষে। এর পেছনে প্রধান কারণ নিঃসন্দেহে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—পর্তুগালের সমর্থক এত বেড়ে যাওয়ার কারণ কি শুধু রোনালদোর জনপ্রিয়তা, নাকি সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালের ধারাবাহিক ইউরো পারফরম্যান্সও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে! আবার ব্রাজিলের তুলনামূলক হতাশাজনক পারফরম্যান্সও কি কিছু সমর্থককে নতুন ঠিকানা খুঁজতে বাধ্য করেছে?

আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সমর্থকদের সংখ্যার বিচারে এক নম্বরে রয়েছে আর্জেন্টিনা এবং দুই নম্বরে ব্রাজিল। উল্লেখযোগ্য হারে পর্তুগালের সমর্থক বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ধারণা, বর্তমানে তিন নম্বরে রয়েছে পর্তুগাল। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকতে পারে জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ড।

২০১৮ বিশ্বকাপের সময় বেলজিয়ামের প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন কিছুটা বেড়েছিল। তাদের স্বর্ণপ্রজন্মের আকর্ষণে অনেক নতুন সমর্থক তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই উচ্ছ্বাস অনেকটাই কমে গেছে এবং বর্তমানে বেলজিয়ামের সমর্থক সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম বলে মনে হয়।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু দেশের প্রতিও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ইরাক, ইরান, সৌদি আরব এবং বিশেষ করে মরক্কোর সমর্থক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চোখে পড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সাফল্য এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি অনেক সমর্থককে এসব দলের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।

বাংলাদেশে ফুটবল সমর্থন সবসময়ই শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, প্রিয় খেলোয়াড়, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং কখনো কখনো পরিচয়ের অনুভূতিও। তাই বিশ্বকাপ এলেই সমর্থনের মানচিত্র বদলায়, নতুন দল জনপ্রিয় হয়, আবার পুরোনো ভালোবাসাও টিকে থাকে।

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাবি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow