ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান

লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আর বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে এখন অনেকেরই ভরসা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এই বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য কোন সোলার প্যানেল ভালো হবে, দাম কেমন, কোন ব্যাটারি টেকসই, কোন ইনভার্টার সাশ্রয়ী? এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ এখন আর শুধু দোকানে দোকানে ঘুরছেন না। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এর সমাধান মিলছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে। এসব গ্রুপে লাখ লাখ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী, নতুন ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞরা এক হয়ে গড়ে তুলেছেন জ্ঞান ভাগাভাগির এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। সম্প্রতি ‘সোলার পরামর্শ (সৌর বিদ্যুৎ)’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে সজীব পরদেশি নামের এক সদস্য পোস্ট করে জানতে চান, ‘গ্রামের বাড়িতে আইপিএস নাকি সোলার প্যানেল ভালো হবে?’ পোস্টটি করা মাত্রই সেখানে পরামর্শের বন্যা বয়ে যায়। ছয় ঘণ্টার মধ্যে ৫০টিরও বেশি তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্য জমা পড়ে সেই পোস্টে। কেউ দীর্ঘস্থায়ী সুবিধার জন্য সৌরবিদ্যুতের পক্ষে মত দেন, তো কেউ প্রাথমিক খরচ কম হওয়ায় আইপিএস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ফেসবুকজুড়ে সৌরবিদ্যুতের বড় নেটওয়ার্ক মঙ্গলবার (১৯

ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান

লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আর বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে এখন অনেকেরই ভরসা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এই বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য কোন সোলার প্যানেল ভালো হবে, দাম কেমন, কোন ব্যাটারি টেকসই, কোন ইনভার্টার সাশ্রয়ী? এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ এখন আর শুধু দোকানে দোকানে ঘুরছেন না। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এর সমাধান মিলছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে। এসব গ্রুপে লাখ লাখ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী, নতুন ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞরা এক হয়ে গড়ে তুলেছেন জ্ঞান ভাগাভাগির এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম।

সম্প্রতি ‘সোলার পরামর্শ (সৌর বিদ্যুৎ)’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে সজীব পরদেশি নামের এক সদস্য পোস্ট করে জানতে চান, ‘গ্রামের বাড়িতে আইপিএস নাকি সোলার প্যানেল ভালো হবে?’

পোস্টটি করা মাত্রই সেখানে পরামর্শের বন্যা বয়ে যায়। ছয় ঘণ্টার মধ্যে ৫০টিরও বেশি তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্য জমা পড়ে সেই পোস্টে। কেউ দীর্ঘস্থায়ী সুবিধার জন্য সৌরবিদ্যুতের পক্ষে মত দেন, তো কেউ প্রাথমিক খরচ কম হওয়ায় আইপিএস ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান

ফেসবুকজুড়ে সৌরবিদ্যুতের বড় নেটওয়ার্ক

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে দেখা যায়, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও আইপিএস সংক্রান্ত প্রায় ৪২টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এই গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় হলো ‘সোলার পরামর্শ (সৌর বিদ্যুৎ) - সোলার প্যানেল হেল্পলাইন (Solar Panel Helpline)’, যার সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দুই লাখ ৯৬ হাজার। এর পরেই রয়েছে ‘সোলার প্যানেল অ্যান্ড আইপিএস বাংলাদেশ (Solar Panel and IPS Bangladesh)’ গ্রুপটি, যেখানে যুক্ত আছেন প্রায় দুই লাখ ৪৫ হাজার মানুষ।

শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, ব্যবসায়ীদের জন্যও রয়েছে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম। যেমন ‘সৌর বিদ্যুৎ, আইপিএস, ব্যাটারি+ ব্যবসায়ী’ নামক গ্রুপটিতে সদস্য আছেন প্রায় ৮৯ হাজার। এছাড়া ‘সোলার ব্যাটারি’ গ্রুপে ৪৬ হাজার এবং ‘সোলার এবং ব্যাটারি ক্রয় বিক্রয়’ গ্রুপে প্রায় ৩৬ হাজার সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি ‘সোলার আইপিএস ও সোলার প্যানেল এর দাম’ এবং ‘সোলার এবং আইপিএস হেল্পলাইন বাংলাদেশ’ গ্রুপ দুটিতেও ২৮ হাজার করে সদস্য যুক্ত আছেন।

অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সোলার প্যানেল ইনভার্টার ব্যাটারি বাংলাদেশ’ (১৩ হাজার), ‘সোলার আইপিএস অ্যান্ড ব্যাটারি বাংলাদেশ’ (৯,৩০০), ‘সুভাস্তিকা সোলার আইপিএস বাংলাদেশ’ (৩,৭০০) এবং ‘সোলার মার্কেট বাংলাদেশ’ (১,৮০০)।

আরও পড়ুন
কৃষি সেচ শতভাগ সোলারের আওতায় আনা হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
জুনের মধ্যে সোলার নীতি, কমবে কর: বিদ্যুৎমন্ত্রী
১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য অর্জনে সহজ বিনিয়োগ পরিবেশ চান বিশেষজ্ঞরা
‘এত লোডশেডিং শেষ কবে হয়েছে ভুলে গিয়েছি’

কী বলছেন গ্রুপের সদস্যরা?

ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন, তা জানা গেল কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে।

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এবং গ্রুপের নিয়মিত সদস্য আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে সোলার পণ্য কিনতে গিয়ে দোকানিদের কথার ওপর নির্ভর করতে হতো। অনেক সময় তারা নিম্নমানের প্যানেল গছিয়ে দিতো। কিন্তু এখন গ্রুপে এসে প্যানেলের ওয়াট, ইনভার্টারের কার্যক্ষমতা এবং লিথিয়াম ব্যাটারির স্মার্ট বিএমএস (ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এখন আর কেউ আমাকে ঠকাতে পারবে না।’

আরেকজন নতুন ক্রেতা, ঢাকার নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘গ্রুপের কল্যাণে আমি জানতে পেরেছি যে মেঘলা আকাশেও সোলার প্যানেল কীভাবে কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করলে কেমন সাশ্রয় হয়। ফেসবুক গ্রুপে একজনে পোস্টে আসা কমেন্টগুলো দেখেই আমি আমার বাড়ির জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।’

ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান

কেন এই গ্রুপগুলো এত জনপ্রিয়?

এই বিশাল অনলাইন কমিউনিটি কীভাবে কাজ করছে এবং এর পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে কথা হয় কয়েকজন গ্রুপ পরিচালকের (অ্যাডমিন) সঙ্গে।

‘সোলার পরামর্শ’ গ্রুপের অ্যাডমিন মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সচেতন করা। বাজারে সোলার বা আইপিএস নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি আছে। গ্রুপে যখন একজন ভুক্তভোগী তার সমস্যার কথা লেখেন, তখন অন্য অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী বা টেকনিশিয়ানরা ফ্রিতে সেটার সমাধান বাতলে দেন। মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বাস্তব পরামর্শ দিয়েছে। এটাই আমাদের গ্রুপের সার্থকতা।’

অন্য একটি গ্রুপের মডারেটর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে লিথিয়াম ব্যাটারি ও স্মার্ট বিএমএস সিস্টেম নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক দামে আসল পণ্যটি কিনতে পারেন, সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত গ্রুপে সচেতনতামূলক পোস্ট করি। ব্যবসায়ীদের গ্রুপগুলোর মাধ্যমে খুচরা ক্রেতারা সরাসরি আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমছে।’

আরও পড়ুন
ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ ও কাস্টমস জটিলতা সমাধানের দাবি বিকেএমইএ’র
জ্বালানি সংকটের মধ্যে সোলার পণ্যের বিক্রি চাঙা
গরম পড়তেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আইপিএস
৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার

চাইলেই অনলাইনেই নেওয়া যাবে সোলার সেটআপ

দেশে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করা ফেসবুক গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় গ্রুপ হলো ‘সোলার পরামর্শ (সৌর বিদ্যুৎ) - সোলার প্যানেল হেল্পলাইন (Solar Panel Helpline)’। বর্তমানে গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৯৬ হাজার। গ্রুপটি পরিচালনা করছেন সোলার বিডির এমডি নাঈম তালুকদার এবং সিইও রাসেল খান।

বুধবার (২০ মে) সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, সারা বাংলাদেশে তারা সোলার সেটআপ সেবা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সব ধরনের সোলার পণ্য আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিও করছেন। এ জন্য তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটও রয়েছে- Solar.com.bd।

তারা বলেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক কোটেশন দিতে আগে কিছু তথ্য জানতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রজেক্ট লোকেশন কোথায়, দিনে কী কী ব্যবহার করা হবে এবং কত ঘণ্টা চালানো হবে, রাতে ব্যাটারি ব্যাকআপে কী কী চালাতে হবে ও কতক্ষণ ব্যবহার হবে। এছাড়া সোলার প্যানেল কোথায় বসবে, বিল্ডিংয়ের ছাদে নাকি টিনের চালে, প্যানেল থেকে ইনভার্টারের দূরত্ব কত মিটার এবং তাদের টিম গিয়ে সেটআপ করবে নাকি গ্রাহক নিজেই সেটআপ করবেন। এসব বিষয়ও জানতে চাওয়া হয়।

ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান

তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য পাওয়ার পরই তারা সম্ভাব্য খরচ ও বিস্তারিত কোটেশন দিয়ে থাকেন। বর্তমানে তারা স্টোরেজ হিসেবে লিথিয়াম ব্যাটারি বেশি ব্যবহার করছেন। চলতি বছরে সারা দেশে প্রায় ১৫০টির মতো ৫ থেকে ১০ কিলোওয়াটের সোলার সেটআপ করেছেন বলেও জানান তারা।

নাঈম তালুকদার ও রাসেল খান জানান, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ২ কিলোওয়াট ও ৪ কিলোওয়াট সেটআপের। বিশেষ করে ৭ থেকে ৮টি ফ্যান, ১০টি লাইট এবং একটি ফ্রিজ চালানোর জন্য মানুষ নির্দিষ্ট ধরনের ইনভার্টার বেশি কিনছেন।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২ কিলোওয়াটের একটি সেটআপে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সেটআপে থাকছে ২ কিলোওয়াট ইনভার্টার, ১২ ভোল্টের ২৮০ অ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম ব্যাটারি, ৪৫০ ওয়াটের ReC Solar Panel-এর চারটি প্যানেল এবং প্রয়োজনীয় সব সেফটি ডিভাইস।

তারা আরও জানান, গেল মাসে তাদের বিক্রি ছিল সবচেয়ে বেশি। চলতি মাসেও এখনও ১০ দিন বাকি থাকলেও গড়ে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা।

এমডিএএ/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow