বইমেলায় সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলল প্রকাশক ঐক্য
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-কে ঘিরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি এবং প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য-এর মধ্যকার সমঝোতা ভঙ্গ, অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত অবনতির অভিযোগ তুলে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে প্রকাশকরা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ‘প্রকাশক ঐক্য’ জানায়, নানাবিধ প্রতিকূলতা ও চরম সময়স্বল্পতার মধ্যেও মেলা এবং নতুন সরকারের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব থেকেই তারা এবারের মেলায় অংশ নিয়েছেন। তবে মেলার প্রথম ছয় দিনের অভিজ্ঞতায় পাঠক সমাগম নিয়ে পূর্বে ব্যক্ত করা আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমির সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী এবার সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ ৫ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শীর্ষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সে অনুযায়ী ৫ ইউনিট স্টল দেওয়া হলেও, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রকাশকদের ভাষ্য, এটি সমঝোতার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় এবং এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
মেলার মাঠের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দুই সারির স্টলে
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-কে ঘিরে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি এবং প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য-এর মধ্যকার সমঝোতা ভঙ্গ, অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত অবনতির অভিযোগ তুলে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে প্রকাশকরা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ‘প্রকাশক ঐক্য’ জানায়, নানাবিধ প্রতিকূলতা ও চরম সময়স্বল্পতার মধ্যেও মেলা এবং নতুন সরকারের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব থেকেই তারা এবারের মেলায় অংশ নিয়েছেন। তবে মেলার প্রথম ছয় দিনের অভিজ্ঞতায় পাঠক সমাগম নিয়ে পূর্বে ব্যক্ত করা আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমির সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী এবার সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ ৫ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও শীর্ষ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সে অনুযায়ী ৫ ইউনিট স্টল দেওয়া হলেও, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রকাশকদের ভাষ্য, এটি সমঝোতার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় এবং এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
মেলার মাঠের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দুই সারির স্টলের মাঝের পথ ইটবিহীন ও অসমতল, খোঁড়াখুঁড়ির কারণে গর্ত ও মাটির ঢেলা পড়ে থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত পানি না ছিটানোয় ধুলাবালি উড়ছে, যা পাঠক, দর্শনার্থী ও স্টলকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবও মারাত্মক আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে আয়োজকদের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও দাবি প্রকাশকদের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মেলা প্রাঙ্গণে অবৈধ মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা বইমেলার পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ছাড়া, হকারদের অবাধ বিচরণ, বাদাম-ঝালমুড়ি এমনকি সিগারেট বিক্রির ঘটনাও মেলার শৃঙ্খলা নষ্ট করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রাতে স্টল বন্ধ হওয়ার পর মেলা প্রাঙ্গণে ছিন্নমূল ও বহিরাগত ব্যক্তিদের প্রবেশের কারণে প্রকাশকদের বই ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কোটি টাকার বই ও মালামাল ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দাবি সংগঠনটির।
প্রকাশক ঐক্য জানায়, তারা কোনোভাবেই মেলা কর্তৃপক্ষের প্রতিপক্ষ নয়; বরং গঠনমূলক সমালোচকের ভূমিকায় থেকে একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সফল বইমেলা চায়। সংগঠনটি আগামী ৫ মার্চের মধ্যে বিশেষ করে অবকাঠামো, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও হকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ৬ ইউনিট স্টল বরাদ্দের বিষয়ে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।