বছরে ১০-২০টি করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, উত্তর কোরিয়া এখনো বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নববর্ষের সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশল প্রয়োজন। বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লি জে মিয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়ায় এমন পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা দিয়ে বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশটির আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য তিন ধাপে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, অতিরিক্ত পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন বন্ধ করা, এসব উপাদান বিদেশে সরবরাহ না করা এবং আইসিবিএম প্রযুক্তির উন্নয়ন থামানো গেলে তা ইতিবাচক হবে। লি বলেন, আদর্শ থেকে সরে না গিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনার

বছরে ১০-২০টি করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, উত্তর কোরিয়া এখনো বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নববর্ষের সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশল প্রয়োজন। বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

লি জে মিয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়ায় এমন পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, যা দিয়ে বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশটির আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য তিন ধাপে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, অতিরিক্ত পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন বন্ধ করা, এসব উপাদান বিদেশে সরবরাহ না করা এবং আইসিবিএম প্রযুক্তির উন্নয়ন থামানো গেলে তা ইতিবাচক হবে।

লি বলেন, আদর্শ থেকে সরে না গিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কর্মসূচি থামানো, ধাপে ধাপে তা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পথে এগোনোই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এ ছাড়া তিনি ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। দুর্ঘটনাজনিত সামরিক সংঘর্ষ প্রতিরোধ ও পারস্পরিক আস্থা তৈরির লক্ষ্যে করা ওই চুক্তিটি উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ২০২৪ সালে স্থগিত হয়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও জানান, পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অচলাবস্থায় থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এবং দুই কোরিয়ার সংলাপ ফের চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।

লি বলেন, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরুর ক্ষেত্রে সিউল একটি ‘পেসমেকার’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে এবং আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করবে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে লি জে মিয়ং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনো উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। আগের প্রশাসনের সময় দুই কোরিয়ার সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ল গত বছর সামরিক আইন জারির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত হন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow