বন্যায় খাগড়াছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার কৃষক, ক্ষতি ১২ কোটি টাকা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। জেলার প্রায় আট হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় ৩১৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ২৭৩ মেট্রিকটন। এতে কৃষি খাতে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ১৩০ হেক্টর এবং ফসলি জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম বপনকৃত ১ হাজার ৩১ হেক্টর জমি বন্যার কবলে পড়ে। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯৩ হেক্টর জমি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির প্রায় ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৮০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শহিদুল বলেন, অনেক কষ্টে ২ কানি (৮০ শতাংশ) জমিনের আউশ ধান করেছি, সবটুকু জমি বন্যায় পানিতে তালিয়ে গেছে। এখন কী করে খাবো সেই চিন্তায় করছি। দীঘিনালা মেরুং ইউনিয়নের কৃষক আ. হাকিম বলেন, তিন কানি জমি

বন্যায় খাগড়াছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার কৃষক, ক্ষতি ১২ কোটি টাকা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি খাত। জেলার প্রায় আট হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় ৩১৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ২৭৩ মেট্রিকটন। এতে কৃষি খাতে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ১৩০ হেক্টর এবং ফসলি জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে আগাম বপনকৃত ১ হাজার ৩১ হেক্টর জমি বন্যার কবলে পড়ে। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯৩ হেক্টর জমি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির প্রায় ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৮০ হেক্টর জমিতে আংশিক ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শহিদুল বলেন, অনেক কষ্টে ২ কানি (৮০ শতাংশ) জমিনের আউশ ধান করেছি, সবটুকু জমি বন্যায় পানিতে তালিয়ে গেছে। এখন কী করে খাবো সেই চিন্তায় করছি।

দীঘিনালা মেরুং ইউনিয়নের কৃষক আ. হাকিম বলেন, তিন কানি জমিন চাষের জন্য জালা (ধানের চারা) পেলেছি পানিতে ডুবে সব পচে গেছে। আর ধান লাগানোর মতো কোনো টাকাপয়সা নাই।

তারাবনিয়ায় কৃষানি কৃত্তি চাকমা বলেন, বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া লাউ, সবজি ক্ষেত ও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে চলবো জানি না।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস জানান, বন্যার পানিতে আমন ধানের বীজতলা, বিভিন্ন সবজি, পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে গেলেও অনেক জমিতে পলি, বালু ও কাদা জমে থাকায় চাষাবাদ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

প্রবীর সুমন/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow