বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় মাঠে রাসিক

বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে পানি, ব্যাহত হয় যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। তবে এবার আগেভাগেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে ১০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাসিক। প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নগরীর জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে চলছে ব্যাপক ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম। বড় ড্রেন থেকে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে কাদামাটি অপসারণ করা হচ্ছে, আর ছোট ড্রেনগুলো পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। রেলগেট মোড় থেকে বাইপাস ব্রিজ হয়ে সিটি হাট পর্যন্ত বড় এক্সকেভেটর দিয়ে প্রাইমারি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। আপেল ডেকোরেটর থেকে ডিঙ্গাডোবা রেলক্রসিং, ঝাউতলা মোড় থেকে ভাটাপাড়া হয়ে মহিষবাথান কবরস্থান পর্যন্তও চলছে বিশেষ কার্যক্রম। এছাড়া মথুরডাঙ্গা থেকে বাইপাস ব্রিজ পর্যন্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। নেসকোর পেছন থেকে

বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় মাঠে রাসিক

বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে পানি, ব্যাহত হয় যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। তবে এবার আগেভাগেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে ১০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাসিক। প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নগরীর জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে চলছে ব্যাপক ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম। বড় ড্রেন থেকে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে কাদামাটি অপসারণ করা হচ্ছে, আর ছোট ড্রেনগুলো পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। রেলগেট মোড় থেকে বাইপাস ব্রিজ হয়ে সিটি হাট পর্যন্ত বড় এক্সকেভেটর দিয়ে প্রাইমারি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। আপেল ডেকোরেটর থেকে ডিঙ্গাডোবা রেলক্রসিং, ঝাউতলা মোড় থেকে ভাটাপাড়া হয়ে মহিষবাথান কবরস্থান পর্যন্তও চলছে বিশেষ কার্যক্রম।

এছাড়া মথুরডাঙ্গা থেকে বাইপাস ব্রিজ পর্যন্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। নেসকোর পেছন থেকে হরিজন পল্লী পর্যন্ত চলছে ময়লা ও কাদামাটি অপসারণের কাজ। একই সঙ্গে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ছোট ও মাঝারি ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করছেন রাসিকের কর্মীরা। দড়িখরবোনা থেকে বর্ণালী, সাহেববাজার বড় মসজিদ থেকে তুলা পট্টি এবং রাণীবাজার টাইলসপট্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও চলছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকিতে নিজেই মাঠে সময় দিচ্ছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।

রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দায়িত্ব। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে দিন-রাত কাজ করছি। অনেক জায়গায় ভবন মালিকরা ড্রেনের ওপর স্থায়ী ঢালাই করে পকেট বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পরিষ্কার কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে, ড্রেনের ওপর স্থায়ী ঢালাই করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করবেন না। নগরকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

রাসিকের এই আগাম উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তাদের মতে, বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা অনেক ড্রেন এবার পরিষ্কার করা হচ্ছে। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা আগের তুলনায় কম হবে বলে আশা করছেন তারা।
নগরীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নগরীতে এমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বর্ষার আগেই ড্রেন পরিষ্কার করায় এবার নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছি।’

আরেক বাসিন্দা শরিফুল হাসান বলেন, ‘রাসিকের কর্মীদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। নাগরিক সেবায় এই আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নগরবাসী উপকৃত হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow