বহর বাড়াতে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়েগের পথে ইউএস-বাংলা

দেশের প্রধান বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা তাদের বহর সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ এয়ারক্রাফট নিজেদের বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান থেকে এ এয়ারক্রাফটগুলো সংগ্রহ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।  বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য মিলেছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এ উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইউএস-বাংলা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকার

বহর বাড়াতে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়েগের পথে ইউএস-বাংলা

দেশের প্রধান বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা তাদের বহর সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ এয়ারক্রাফট নিজেদের বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে এয়ারলাইন্সটি।

বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান থেকে এ এয়ারক্রাফটগুলো সংগ্রহ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। 

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য মিলেছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এ উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

ইউএস-বাংলা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।

নিজেদের বহরে নতুন ২১টি এয়ারক্রাফট যুক্ত করার কার্যক্রমের কথা স্বীকার করে ইউএস-বাংলার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেছেন, ‘আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। সেখানে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

ওই অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বড় সফলতা হবে।

 দেশের এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে দেশে এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। যা ইউএস-বাংলা নিজেদের স্বয়ংসম্পর্ন্ন করতে বহু আগেই শুরু করেছে।

ইউএস-বাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শুধু বহরের আকার বাড়ানো নয়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এয়ারলাইন্সটি। নতুন এয়ারক্র্যাফটগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিট সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি উড়োজাহাজে থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কোনো তার ছাড়াই দেশি-বিদেশি কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।

ইউএস-বাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন বহরের প্রতিটি উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধাও থাকবে। ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং ফোন কলে কথা বলতে পারবেন। এ ধরনের সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্সের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow