বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনারের বৈঠক: ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে দুই দেশের হাইকমিশনার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
গত ১৭ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার ফরেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ হাউসে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ. এম. বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি, শিক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আকাশপথে যোগাযোগ, সামুদ্রিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সফরসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রশংসা কর
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে দুই দেশের হাইকমিশনার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
গত ১৭ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার ফরেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ হাউসে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ. এম. বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি, শিক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আকাশপথে যোগাযোগ, সামুদ্রিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সফরসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করে একটি সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সহযোগিতা, বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আম রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ এবং বাংলাদেশি নাবিকদের পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি।
এছাড়া উভয় পক্ষ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হন। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক সফরের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা ক্যাম্পাস হলে নতুন সম্ভাবনা
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ দেশেই আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাভিত্তিক ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরায় বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ১৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ব্যবহারিক শিক্ষা, শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানমুখী পাঠক্রমের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং-এ বৈষম্য হ্রাসে বিশ্বের শীর্ষ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-এ বিশ্বের শীর্ষ ২৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান করছে। শিক্ষার্থী সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এটি ক্যানবেরার অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম ব্যয়ে অস্ট্রেলিয়ান ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বিদেশে না গিয়েই আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রম, অভিজ্ঞ শিক্ষক, গবেষণার সুযোগ এবং শিল্পখাতভিত্তিক দক্ষতা অর্জন সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল ক্যাম্পাসে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণায় স্থানান্তরের পথও আরও সহজ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসা, সরকার ও আইন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিল্প ও নকশা অনুষদে আন্তর্জাতিক মানের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক ডিগ্রি পরিচালিত হয়। ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দেশেই থেকে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।