বাউফলে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশ

পটুয়াখালীর বাউফলে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরের খাল খনন ও সংস্কার কাজে অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ জনপদে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং টেকসই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নির্ধারণ করে দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণে মূলত ৫টি মূল কারিগরি শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও তা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে।  খালের তলদেশ মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বনিম্ন ১০ ফুট গভীর করতে হবে। খালের মুখ বা উপরিভাগ সর্বনিম্ন ৩০ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। খালের দুই পাশে সর্বনিম্ন ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা বা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার উচ্চতা পাশের সমতল জমি হতে সর্বনিম্ন ৩ ফুট উঁচু হতে হবে। কিন্তু তাও করা হচ্ছে না। ​  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাউফলের রাজনগর, পালাপাড়া, উত্তর রাজনগর, জাদুরকাঠী, দক্ষিণ রাজনগরে খনন কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রশস্ততা ব

বাউফলে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশ

পটুয়াখালীর বাউফলে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরের খাল খনন ও সংস্কার কাজে অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ জনপদে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং টেকসই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নির্ধারণ করে দিলেও তা মানা হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণে মূলত ৫টি মূল কারিগরি শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও তা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। 

খালের তলদেশ মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বনিম্ন ১০ ফুট গভীর করতে হবে। খালের মুখ বা উপরিভাগ সর্বনিম্ন ৩০ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। খালের দুই পাশে সর্বনিম্ন ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা বা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার উচ্চতা পাশের সমতল জমি হতে সর্বনিম্ন ৩ ফুট উঁচু হতে হবে। কিন্তু তাও করা হচ্ছে না।
​ 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাউফলের রাজনগর, পালাপাড়া, উত্তর রাজনগর, জাদুরকাঠী, দক্ষিণ রাজনগরে খনন কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রশস্ততা বজায় রাখা হচ্ছে না। অনেক জায়গায় ভেকু মেশিন দিয়ে নামমাত্র মাটি কেটে প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

সবচেয়ে বড় নিয়মবহির্ভূত কাজ হচ্ছে খালি জায়গা রাখার ক্ষেত্রে। নিয়ম অনুযায়ী খালের প্রান্ত থেকে ৩ ফুট জায়গা খালি রেখে মাটি ফেলার কথা থাকলেও, তা না মেনে খালের একদম পাড় ঘেঁষেই মাটি স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি বা বর্ষার শুরুতেই এই আলগা মাটি ধসে পুনরায় খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

এছাড়া, উত্তোলিত মাটি দিয়ে যে ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৩ ফুট উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ বা রাস্তা তৈরি করার কথা, তাও অনেক স্থানে যথাযথভাবে কম্প্যাক্ট করা হচ্ছে না। ফলে এই রাস্তা গ্রামীণ যোগাযোগের কোনো কাজেই আসবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজনগরের বাসিন্দা সুনিল পাল অভিযোগ করেন, খাল খননে নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। বৃষ্টির মাঝেও খাল খনন করা হচ্ছে। ভেকু মেশিন দিয়ে কোনো রকম মাটি কেটে খালের পারেই ফেলা হচ্ছে।

কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, খালের তলদেশে গভীর করা হচ্ছে না। খননকালে সরকারের কাউকে তদারকি করতেও দেখা যায় না। ভেকু মেশিনের চালক নিজের মতো করে খনন কাজ করেন। এভাবে হলে বছর পার হওয়ার আগেই খাল ভরাট হয়ে যাবে। 

এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, খাল খননে কোনো অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে আমিসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু কয়েকটি খাল খনন এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাতে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow