বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল ছেলে

বাবার আকস্মিক মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে, বাড়িতে লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীর বাবা মো. মফিদুল আলম আরজু (৫৪) চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করতে বাবার মৃত্যুর পাহাড়সম শোক পাথর চেপে সকালেই পরীক্ষাকেন্দ্রে ছুটে যায় সে। পরীক্ষা শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় লাবিব। এ সময় তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা কেন্দ্রে তার পাশে থেকে সান্ত্বনা জানান। বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কা

বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল ছেলে

বাবার আকস্মিক মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে, বাড়িতে লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীর বাবা মো. মফিদুল আলম আরজু (৫৪) চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত সোমবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনির বাসিন্দা ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন করতে বাবার মৃত্যুর পাহাড়সম শোক পাথর চেপে সকালেই পরীক্ষাকেন্দ্রে ছুটে যায় সে। পরীক্ষা শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় লাবিব। এ সময় তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা কেন্দ্রে তার পাশে থেকে সান্ত্বনা জানান।

বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মরহুম মফিদুল আলমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মফিদুল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

চাটখিল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, অধ্যাপক মফিদুল আলম প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে চাটখিলে কলেজে যাতায়াত করতেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষক প্রতিদিন আসা-যাওয়ায় দীর্ঘ ৭৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েও কখনো ক্লাস কামাই করতেন না। তার সহজ ও সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।

কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সন্তানের সফলতা ছিল মফিদুল স্যারের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণের মহান দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব এই চরম শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। আল্লাহ লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি দান করুন।

প্রিয় শিক্ষকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ প্রশাসন এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow